ঝালকাঠিতে আধুনিক বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু হয়েছে

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২২, ২০২০,৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ
0
37

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

বাধন রায়, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : ঝালকাঠিতে আধুনিক বায়োফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু হয়েছে।  বসত বাড়ির উঠান বা বাড়ির সাথে কৃত্তিম ট্যাংক করে সেখানে অল্প যায়গায় লাভজনক এই মাছের চাষ করা যায়। এ চাষে প্লাবন বা বন্যা জনিত কারণে কোন ঝুকি থাকে না। তবে এই চাষে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ না পাওয়া ও মান সম্পন্ন মাছের পোনা ও খাবার ফিড না পাওয়া এবং মাছের খাবার দাম চড়া থাকায় উৎপাদন খরচ বেশি হয়। এছাড়াও পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি এই প্রকল্পে কৃষি রেট না দিয়ে বানিজ্যিক রেটে বিদ্যুৎ বিল আদায় করায় লাভের অংশ বিদ্যুৎ বিল খেয়ে ফেলে বলে উদ্যোক্তারা দাবী করেছেন। 

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার উত্তর সাউথপুর গ্রামের জাকিরুউর রহমান এবং বড় কৈবর্তখালী গ্রামের কায়েম গাজি এই পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেছেন। শিক্ষ এই দুই যুবক করোনাকালীন পরিস্থিতিতে চাকুরি হারিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসে এবং বসত ঘরের পাশে প্রকল্প গড়ে তোলেন। তারা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এই মাছ চাষের উপর ধারণা অর্জন করেন।

উত্তর সাউথ পুর গ্রামের জাকিউর রহমান ২০২০ সালে বিসমিল্লাহ বায়োফ্লক মাছ চাষ প্রকল্প শুরু করেন। সে ৪টি কৃত্তিম ট্যাংক করে ১ লক্ষ ২০ হাজার লিটার পানিতে মাছ চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন করে ২৬ আগস্ট থেকে ১৭ হাজার পিস মনোসেক্স তেলাপিয়া ও ২ হাজার ৪শ পিস মিনার কার্প জাতের মাছের পোনা ছাড়েন। এপর্যন্ত সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে এবং জানুয়ারি মাসে সাইজ অনুযায়ী বাজারযাত করার জন্য ২লক্ষ টাকার মাছ উত্তোলন করবেন। জাকিউর রহমান তার এই চাষের প্রথম ধাপ কাটিয়ে চাষ সম্প্রসারণ করবেন এবং ১৬ লক্ষ টাকা পুজি ব্যায় করে চাষাবাদ সম্প্রসারণ করবেন।

অনুরূপভাবে বড় কৈবর্তখালী গ্রামের কায়েম গাজী ৪টি কৃত্তিম ট্যাকং করে বসতবাড়ির আঙ্গিনায় ১লক্ষ ২৮ হাজার লিটার পানিতে ২০ হাজার পিস কৈ মাছ ও ২০ হাজার পিস মনোসেক্স তেলাপিয়া মাছের পোনা ছেড়েছেন। অবকাঠামোগত কাজ শেষে করে জুলাই মাসে পোনা ছেড়েছেন। আগামী জানুয়ারী মাসে বিক্রয় যোগ্য মাছ বাজারজাত করবেন এবং ফেব্রুয়ারি মাসে সবমাছ বিক্রি করে নতুন পোনা ছাড়বেন। এপর্যন্ত তার ৮ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকা ব্যায় হয়েছে।

তার প্রতিষ্ঠানে নাম দিয়েছে গাজী এগ্রোফার্ম। সম্প্রতি ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রকল্প ২টি পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে