জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমের আওতায় আনা হবে চট্টগ্রাম নগরীকে: চসিক মেয়র

বুধবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৯,৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ
0
47

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

চট্টগ্রাম নগরীকে জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমের আওতায় ৪১ টি ওয়ার্ডের ডিজিটাল ম্যাপ প্রণয়নের উদ্যেগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। ইতোমধ্যে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শিঘ্রই এই ব্যাপারে চসিক এবং আইডব্লিউএম এর মধ্যে চুক্তি হতে যাচ্ছে।

৪১ টি ওয়ার্ডের প্রতিটি ওয়ার্ডকে আলাদা আলাদা এবং একটি কেন্দ্রীয়ভাবে জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমের আওতায় আনা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে চসিকের ব্যয় হবে ১২ কোটি টাকা। এ প্রকল্প বাস্তবায়ানের সময়সীমা আড়াই বছর।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত ৫ম পরিষদের ৫৩তম সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম.নাছির উদ্দীন এই তথ্য প্রকাশ করেন। নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট হলে অনুষ্ঠিত এই সভায় চসিক প্যানেল মেয়র,কাউন্সিলর,সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর, চসিক প্রধান নির্বাহী মো. সামসুদ্দোহা, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল সোহেল আহমদ, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া, মেয়রের একান্ত সচিব মো. আবুল হাশেমসহ চসিক বিভাগীয় ও শাখা প্রধানগন এবং নগরীর সরকারী ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনায় ছিলেন চসিক ভারপ্রাপ্ত সচিব,প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মফিদুল আলম।

জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেম(জিআইএস) ডিজিটাল ম্যাপ প্রণয়নের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে সিটি মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম শহরকে স্মার্ট সিটি বাস্তবায়নে জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেম অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এর মাধ্যমে একটি শহরের সকল তথ্য উপাত্ত আদান-প্রদান নগর পরিকল্পনার ক্ষেত্রে জিআইএস পদ্ধতি একটি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে। স্বচ্ছতা,জবাবদিহিতা এবং দক্ষতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে কর্পোরেশনের আয় বৃদ্ধিতে জি আই এস পদ্ধতি কার্যকরি ভূমিকা পালন করবে। এই প্রসঙ্গে মেয়র বলেন নগরের কোনো জিআইএস ডিজিটাল ম্যাপ নাই। নগরে কি কি সম্পদ আছে তা জানা সকলের উচিত। এমনকি সিটি কর্পোরেশন স্বার্থ সংরক্ষণে এই ম্যাপ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এই জিআইএস ডিজিটাল ম্যাপ নগরবাসি এ্যাট-এ-গ্যালেন্স হিসেবে দেখতে পারবে বলে মেয়র মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আগামী ২০২০ সালের ১৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী। এই শতবার্ষিকীকে মুজিববর্ষ হিসেবে ঘোষনা করেছে সরকার। একে ঘিরে দেশব্যাপি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। এর আলোকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনও বছরব্যাপি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এই কর্মসূচির মধ্যে মশকমুক্ত পরিচ্ছন্ন সবুজ নগর, বঙ্গবন্ধুর নামকরণে জিমনেশিয়াম চত্বরে বঙ্গবন্ধু বই মেলার আয়োজন, প্রতিটি ওয়ার্ডকে ৪ভাগে বিভক্ত করে প্রতিটি ভাগে রাস্তা,ফুটপাত,গলি উপগলি,নালা-নর্দমা ইত্যাদি যথাযথভাবে পরিস্কার, মশার বংশ বিস্তার রোধ এবং মশার স্থান ধ্বংস করণে কেমিক্যাল স্প্রে,বর্জ্য ফেলার স্থান ও সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন প্রতিমাসে ২ বার বিশেষ পরিস্কার করণ,ডোর টু ডোর সেবকদের কাজের মান বৃদ্ধির জন্য কর্মশালা, চসিক পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ হাসপাতাল, অফিস ও শপিংকমপ্লেক্স ইত্যাদি পরিস্কার করণ,গৃহস্থালির বর্জাদি নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার বিষয়ে “পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করুন”, “চট্টগ্রাম শহরকে সুস্থ রাখুন” সহ বিভিন্ন স্লোগান সম্মিলিত সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ক্যাম্পেইন, নগরবাসিকে সম্পৃক্ত করণ,মনিটরিং ও রিপোটিং কার্যক্রম জোরদার করণ,নগরীকে সবুজায়ন কার্যক্রম ইত্যাদি রয়েছে।

১লা জানুয়ারি থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে বলে মেয়র সভায় উল্লেখ করেন। মেয়র আরো বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আমাদের কাজ-কর্মে বলিষ্ট ভূমিকা পালন করতে পারে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে তাদের সাথে সহজতর উপায়ে মতবিনিয় করতে হবে। যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবারের পিতা-মাতা সহ অন্যান্য সদস্যরকে এই বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।জনসচেতনতা সৃষ্টিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। মেয়র রাজনৈতিক মতাদর্শকে প্রাধান্য না দিয়ে সকল সংর্কীর্ণতার উর্দ্ধে উঠে চসিকের মুজিববর্ষ উদযাপনের গৃহিত পরিকলল্পনা বাস্তবায়নে কাউন্সিলরদের গুরত্বের সাথে ভূমিকা রাখার আহবান জানান। সিটি মেয়র বলেন, চসিক এর ৪১ জন কাউন্সিলর ও ১৪ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের নিয়ে ৫ম নির্বাচিত পরিষদ। নগর উন্নয়ন ও কাজের সুবিধা এবং গতিময়ের জন্য রয়েছে ২০ টি স্ট্যান্ডিং কমিটি। এই কমিটিতে কেউ না কেউ সভাপতির পদে আসিন। পদের প্রতি প্রতিদান দেয়া সকলের উচিত। তাই স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যদেরকে কার্যকরী ভূমিকা পালন করার আহবান সিটি মেয়রের।

সভায় নগরীর কর্র্তনকৃত রাস্তা ফি আদায়ের রেইট অব শিডিউল পুন: বিন্যাস, ৪১ টি ওয়ার্ড ও রাজস্ব সার্কেল সহ ফিংগার প্রিন্ট চালু, জেনারেটরের ভাড়া জেনারেটর ও টিউব লাইট ফ্যাক্টরীর মেশিনারী নিলাম, চসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদক,জঙ্গীবাদ ও বাল্যবিবাহ সহ বিবিধ বিষয়ে সচেতনতা মূলক প্রচারনা সহ বিগত সভার কার্যবিবরণী আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। অনুষ্ঠিত সভায় অর্থ ও সংস্থাপন, শিক্ষা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যরক্ষা, নগর অবকাঠামো নির্মাণ ও সংরক্ষণ,আইন শৃংখলা, যোগাযোগ, নগর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, পরিবেশ উন্নয়ন সম্পর্কিত, দারিদ্র হ্রাসকরণ ও বস্তি উন্নয়ন,পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষন, পানি ও বিদ্যুৎ ষ্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যানগণ স্ব স্ব কমিটির কার্যবিবরণী উপস্থাপন করেন এবং আলোচনান্তে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

সভার শুরুতে ১৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক এস.এম.মহিম উদ্দিন মহিমসহ সম্প্রতি নগরীতে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তিদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাদ্রাসা পরিদর্শক মাওলানা হারুণ-উর-রশিদ চৌধুরী। সভা শেষে আজিজ এন্ড কোং লি. পাকিং সলিউশনের জন্য পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে বহুতল মেকানিক্যাল পার্কিং গ্যারেজ সম্পর্কে তথ্য উপাত্ত প্রদর্শন ক

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে