জাতীয় শোক দিবসে কেআইবির মহাসচিবের নিকট ‘বঙ্গবন্ধুর জীবনী‘ কবিতা হস্তান্তর

রবিবার, আগস্ট ২২, ২০২১,১২:৫৬ অপরাহ্ণ
0
11

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

নিজস্ব সংবাদদাতা : বঙ্গবন্ধুর ৪৬ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস ২০২১ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত পরিষদ বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী কমিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও সম্মানিত সদস্যগণ স্বাস্থ্য বিধি মেনে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর “৪৬ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস ২০২১” উদযাপনে ১৫ ই আগষ্টের কাল রাত্রিতে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
কর্মসূচির শুরুতেই রেলী সহকারে খামারবাড়ি হতে কেআইবি চত্বরে আগমন করা হয় ও গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এ সময় উক্ত কর্মসূচিতে অংশ নেন সভাপতি কৃষিবিদ বিভূতি ভূষণ সরকার, সিনিয়র সহ-সভাপতি কৃষিবিদ শেখ মোঃ মুজাহিদ নোমানী, সহ-সভাপতি কৃষিবিদ মৃত্যন্জ্বয় রায়, আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মনিন্দ্র নাথ সিংহ, সহ-সভাপতি মোঃ জাহেদুল হক, অর্থ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম এবং সম্প্রতি ” বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২৪” প্রাপ্ত নবাগত সদস্য মোঃ মেসবাহুল ইসলাম।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত পরিষদ এর নেতৃবৃন্দ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জনাব ড. শহীদুর রশীদ ভুঁইয়া, মোঃ খায়রুল আলম (প্রিন্স), মহাসচিব এবং মোঃ নজরুল ইসলাম, কেআইবির নির্বাচন কমিশনার এবং সাবেক পরিচালক, কৃষি তথ্য সার্ভিসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের সাথে এক সৌজন্য স্বাক্ষাৎকারে মিলিত হন। এসময় উভয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় হয় এবং সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত পরিষদ বাংলাদেশ এর পক্ষ হতে বঙ্গবন্ধুর ৪৬তম শাহাদাত বার্ষিকী জাতীয় শোক দিবস ২০২১ উপলক্ষে পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং অবসরপ্রাপ্ত উপপরিচালক (বীজ প্রত্যয়ন) ও জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার কৃষি সাংবাদিক, লেখক ও উদ্ভাবক কৃষিবিদ শেখ মোঃ মুজাহিদ নোমানী কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্যময় জীবন কাহিনী নিয়ে লিখিত ” এক মহানায়কের অমর কীর্তিগাঁথা..! ” শীর্ষক কবিতাটি জনাব খায়রুল আলম প্রিন্স, মহাসচিব, কেআইবির হাতে তুলে দেন স্বয়ং কবি মুজাহিদ নোমানী।

কবিতাটিতে বঙ্গবন্ধুর জন্ম হতে শাহাদাত বরণ পূর্ব পর্যন্ত সময়ে শৈশবে দুঃখী মানুষের জন্য অকৃত্রিম দরদ,কৈশোরে প্রতিবাদী যুবকের বৈশিষ্ট্য আর তারুণ্যে অসাধারণ নেতৃত্ব প্রদান এবং পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন আর ৭ মার্চ,১৯৭১-এর অগ্নিঝরা ভাষণে উজ্জীবিত মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের, যা কবিতাটির প্রতিটি লাইনে তুলে ধরা হয়েছে।

তাছাড়া বাঙালির মুক্তি-সংগ্রামের ইতিহাসে এক ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি,স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি ১৯৭২-এ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েই তাঁর দূরদৃষ্টি ও প্রজ্ঞা দিয়ে বুঝেছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের মৌলিক চাহিদাসমুহ পূরণের জন্য সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা ও ধ্বংসপ্রাপ্ত যোগাযোগ অবকাঠামো জরুরী ভিত্তিতে পুনর্বাসন করা।
আর এর জন্য প্রয়োজন উন্নত জাতের মানসম্পন্ন ভালো বীজ, সার ও সেচ এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। তাই ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ার ইস্পাত-দৃঢ় স্বপ্ন পূরণে প্রথমেই বঙ্গবন্ধু হাতে নিলেন যুদ্ধ বিধ্বস্ত সোনার বাংলার কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নতুন নতুন কৃষি প্রতিষ্ঠান, গবেষণাগার স্থাপন ও পুরাতন কৃষি অবকাঠামো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প।

তারই ফলশ্রুতিতেই খাদ্যশস্য উৎপাদন বেড়ে যায় ২-৩ গুণ। আজ তা হয়েছে প্রায় ৪ গুণ। খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে বাংলাদেশ আজ খাদ্য রফতানিকারি দেশে পরিণত হয়েছে।
যুদ্ধ -বিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে দক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনায় এমনিভাবে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, গৃহায়ণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক দূরদর্শিতায় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ এবং সফল পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণের ফলে বিশ্ব শান্তিতে অবদান রাখায় বঙ্গবন্ধুকে আন্তর্জাতিক সম্মাননা ” জুলিও কুরি’ শান্তি পুরস্কার”-এ ভূষিত করা হয়। এ সমস্ত উল্লেখযোগ্য ঘটনাই তুলে ধরা হয়েছে ৩৬ লাইনে রচিত ” এক মহানায়কের অমর কীর্তিগাঁথা …!” শীর্ষক কবিতাটিতে (সংযুক্ত)।

কবিতা হস্তান্তরের সময় সেখানে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত পরিষদ, বাংলাদেশ- এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন কেআইবির নির্বাচন কমিশনার কৃষিবিদ মোঃ নজরুল ইসলাম এবং কৃষিবিদ মোঃ ফিরোজ খান, সাবেক পরিচালক, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি।
বঙ্গবন্ধুর বর্নাঢ্যময় জীবনীতে কৃষি, কৃষক ও কৃষিবিদদের সাফল্য নিয়ে লিখিত কবিতা প্রদান করায় কেআইবির মহাসচিব কৃষিবিদ খায়রুল আলম প্রিন্স কবি ও লেখক মুজাহিদ নোমানীসহ সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান এবং চা-চক্রে আপ্যায়ন করেন।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে