চিনিকল ও চিনিশিল্প রক্ষার দাবিতে ওয়ার্কার্স পার্টির স্মারকলিপি প্রদান

মঙ্গলবার, অক্টোবর ৬, ২০২০,১১:০৫ অপরাহ্ণ
0
16

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

“ চিনিশিল্প আমাদের দেশের শিল্পায়নের প্রাথমিক উদ্যোগের সাথেই সংশ্লিষ্ট। পাট শিল্পের মত চিনি শিল্পের সাথে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ কৃষক হিসেবে দীর্ঘ সময় আখচাষ করছেন। অতএব চিনিশিল্প বন্ধ হলে আখচাষীরাও ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। চিনিশিল্প অলাভজনক বলা হলেও এটাকে লাভজনক শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা নেয়া হয়নি। চিনি শিল্পের বাই-প্রডাক্ট কখনই কাজে লাগানো হয়নি। চিনিশিল্পের সাথে ডিস্ট্রিলারী, কাগজজাত শিল্পের সম্ভাবনা থাকলেও তা’ গড়ে তোলা হয়নি। তিনটি চিনি কলের সাথে একটি ডিস্ট্রিলারী শিল্প গড়ে তুললে অনায়াসে সামগ্রিক ভাবে শিল্পটি লাভজনক হতে পারে। অথচ এ সকল বিষয় বিবেচনায় না রেখে এবং বিষয়টির উপর মনোযোগি না হয়ে দেশকে আমদানী নির্ভর করে ফেলার প্রবণতা দেখা যায়। চিনি শিল্প বন্ধ হলে প্রায় এক কোটি কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হবেন, ৭০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বেন। চিনিকলের বিশাল খামার ও তার ভূমি লুটপাট হবে, যার দৃষ্টান্ত আমরা দেখেছি। ”

এ প্রেক্ষিতে আগামীকাল ৭ অক্টোবর ২০২০ সকাল ১১টায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি দেশব্যাপি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় শিল্পমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশের মাধ্যমে প্রস্তাবনা তুলে ধরবে। এই কর্মসূচিতে সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

ঢাকা মহানগরের কর্মসূচি:
চিনি ও খাদ্যশিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে মাননীয় শিল্পমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। কমসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ওয়ার্কার্স পার্টি ঢাকা মহানগরের উদ্যোগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১১টায়, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে। সমবেশে অনলাইন ভিডিও কলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন পার্টির সভাপতি জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি।

চিনিকল ও চিনিশিল্প রক্ষার দাবিতে ওয়ার্কার্স পার্টির প্রস্তাবনা

(১) চিনি শিল্পকে রাষ্ট্রীয় শিল্প হিসেবে অধুনিকিকরণ করতে হবে।
(২) প্রতি তিনটি চিনি শিল্পের সাথে যুক্ত থাকবে একটি ডিষ্ট্রিলারী যা রপ্তানী বাণিজ্যকেও শক্তিশালী করবে।
(৩) আখের উচ্ছিষ্ট দিয়ে কাগজ ও হার্ডবোর্ড তৈরী করার শিল্প গড়ে তোলা যেতে পারে। যা বহু আগে উদ্যোগ নেওয়ার পরও অজ্ঞাত কারণে পাকশী পেপার মিল বন্ধ করে দেয়া হয়।
(৪) চিনি বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রেও কর্পোরেশনে আমলাদের ইতিবাচক ভূমিকা না থাকার ফলে বহু চিনি অবিক্রিত অবস্থায় মিল গোডাউনে পড়ে থাকে। সেখানেও আমদানীকারকদের জন্য সুবিধা সৃষ্টি করে দেওয়া হয়। এবং বার বার চিনি শিল্পকে অলাভজনক হিসেবে প্রমাণ করা হয়। এজন্য চিনি বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে কর্পোরেশনের আমলাদের ইতিবাচক ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে