চাল আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল সরকার

মঙ্গলবার, জুন ১১, ২০১৯,৬:২০ পূর্বাহ্ণ
0
177

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ চাল আমদানি নিষিদ্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছে সরকারি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ধানের দাম বৃদ্ধির জন্য। মৌসুমের প্রথম থেকেই চাল আমদানি বন্ধের দাবি ছিল অনেকের চলতি বছর প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদিত হওয়ায় । আমদানি শুল্কও বাড়ানো হয়েছে এরই মধ্যে চাল আমদানি নিরুৎসাহ করতে। পুরোপুরি আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিল সরকার এখন ।

যেখানে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক কোটি ৪০ লাখ টন, সেখানে উৎপাদিত হয়েছে এক কোটি ৫৩ লাখ টন বোরো মৌসুমে। এ কারণে কৃষকরা বাধ্য হচ্ছে প্রতিমণ ধান চাষে যে খরচ হয়েছে তার চেয়ে অনেক কম দামে বিক্রি করতে । ক্ষোভে-দুঃখে ধানক্ষেতে আগুন এবং রাস্তায় ধান ফেলে প্রতিবাদও করা হয়েছে দু-এক জায়গায় । সম্প্রতি বাণিজ্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় ‘পাক্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গৃহীত প্রস্তাব বাস্তবায়ন’ শীর্ষক একটি নির্দেশনা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে । এতে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান সময়ে কৃষকের ধানের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে চালের পরিবর্তে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি এবং বিদেশ থেকে চাল আমদানি বন্ধের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সানুগ্রহ নির্দেশনা প্রদান করা যেতে পারে।’

শাফায়াত মাহবুব চৌধুরী, মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখার উপসচিব স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বোরো ধান উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে বিধায় সাধারণ বাজারে ধানের মূল্য উৎপাদন খরচের চেয়ে কম। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ বৃদ্ধি এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার দাবি উঠেছে।

এদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে চাল আমদানি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি সারসংক্ষেপ পাঠানো হয় কৃষকদের বিষয়টি মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে অবগত হয়ে । বিষয়টিতে সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী । এর পরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে । মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে ওই নির্দেশনা মোতাবেক যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না সে বিষয়েও ।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জের এক কাজ ধানের দাম ঠিক রাখা । যারা চাল কিনে খায় তারা কম দামে চাল চায়। অন্যদিকে বেশি দামে ধান বিক্রি করতে চায় কৃষকরা । এই উভয় চাহিদার দিকে খেয়াল রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হয় সরকারকে । উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বরাবরই খাদ্য ঘাটতির দেশ হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে । কিন্তু দেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ গত কয়েক বছরে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে । তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন এই অবস্থানটিকে এখনই টেকসই পরিস্থিতি বলার মতো সময় আসেনি। সামনে খাদ্য আমদানির প্রয়োজন পড়তে পারে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে । জানা গেছে সাময়িকভাবে কৃষকদের স্বস্তি দিতেই আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে