চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে

সোমবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০২০,৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
0
5

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

গোপালগঞ্জে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের পূর্তকাজ উদ্বোধন করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক। গতকাল মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষ থেকে অনলাইনে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের (বারি) আওতায় এ গবেষণা কেন্দ্রের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মেসবাহুল ইসলাম এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংস্থা প্রধানসহ প্রকল্প পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

উদ্বোধনী বক্তৃতায় কৃষিমন্ত্রী বলেন, গোপালগঞ্জ উন্নয়নের দিক দিয়ে কিছুটা বঞ্চিত। তার কারণ হলো ১৯৭৫ এর পরে সামরিক ও স্বৈরাচারী শাসকরা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান হওয়ার কারণে ঐ সময়ে গোপালগঞ্জে উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর  গোপালগঞ্জের উন্নয়নের চেষ্টা করছেন। কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, এই কৃষি গবেষণা কেন্দ্রটি স্থাপিত হলে গোপালগঞ্জসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভূমির প্রকৃতি ও জলবায়ু অনুযায়ী কৃষি প্রযুক্তি ও ফসলের জাতের উদ্ভাবন প্রভৃতি বিষয়ে গবেষণা কাজ ত্বরান্বিত হবে। এখানে গবেষণা শুরু হলে দক্ষিণাঞ্চল অনেক উপকৃত হবে। বাংলাদেশের একেক জেলার ভূ-প্রকৃতি একেক রকম; সে জন্য এলাকাভিত্তিক গবেষণা হওয়া দরকার; সে লক্ষ্যেই এই গবেষণা কেন্দ্রটি স্থাপন করা হচ্ছে।

পরে ধান-চালের দামের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন,  এই বছর কয়েক দফা লাগাতার বন্যা ও ৫ মাসব্যাপী অতি বৃষ্টিতে আউশ ও আমন ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার হেক্টর জমির আমন ধান নষ্ট হয়েছে। ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫ থেকে ২০ লাখ মেট্রিক টন ধান কম উৎপাদন হওয়ায় চালের দাম কিছুটা বেশি। বিশেষ করে কৃষক পর্যায়ে ধানের দাম অনেক বেশি। এই ঘাটতি মেটাতে সরকার ৫ থেকে ৬ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করবে। কারণ এই ঘাটতি না মেটাতে পারলে মিলার, আড়াতদার ও চাল ব্যবসায়ী যারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করে তারা চালের দাম বাড়ানোর সুযোগ পাবে। ইতিমধ্যে, এই ভরা মৌসুমেও নানান কারসাজি করে মিলাররা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

ড. রাজ্জাক বলেন, সরকার চালের বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে চাল আমদানির শুল্ক কমিয়ে শতকরা ২৫ ভাগ করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি প্রাইভেট সেক্টরকেও চাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে আমদানি করা চাল বাজারে আসা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, ওএমএসের আওতায় চাল বিক্রির কার্যক্রম চলছে।  চালের কিছুটা ঘাটতি রয়েছে, দ্রুত আমদানি করে এই ঘাটতি মেটাতে পারলে এবং বাজারে সরবরাহ বাড়াতে পারলে চালের মূল্য স্বাভাবিক হয়ে আসবে  এবং নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতায় আসবে। দেশের প্রতিটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ভবিষ্যতেও যাতে খাদ্য নিয়ে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী বোরো মৌসুমে ধানের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সর্বাত্মক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ বাড়ানো হবে এবং ২ লাখ হেক্টর জমিতে উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধান চাষের কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে উৎপাদন বাড়াতে প্রায় ৭৬ কোটি টাকার হাইব্রিড ধানবীজ বিনামূল্যে কৃষকদের দেওয়া হয়েছে। আশা করি আগামী মৌসুমে বোরোর বাম্পার ফলন হবে।      

এর পরে মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপি) বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, চলমান ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৬৮টি প্রকল্পের অনুকূলে মোট ২ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। নভেম্বর ২০২০ পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি হয়েছে শতকরা ২২ ভাগ। যেখানে জাতীয় গড় অগ্রগতি প্রায় শতকরা ১৮ ভাগ। 

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে