গুগল ফেসবুক ইউটিউব থেকে রাজস্ব আদায়ে হাইকোর্টের নির্দেশ

সোমবার, নভেম্বর ৯, ২০২০,৩:৩০ অপরাহ্ণ
0
4

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন সার্চ ইঞ্জিন গুগল, ইয়াহু, ই-কমার্সের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবসহ ইন্টারনেটভিত্তিক সব প্ল্যাটফর্ম থেকে কর, ভ্যাটসহ সব ধরনের রাজস্ব আদায়ের। ওই সব কম্পানির অনুকূলে এ পর্যন্ত পরিশোধিত অর্থ থেকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই রাজস্ব আদায় করতে বলা হয়েছে।

গতকাল রবিবার এক রায়ে এই নির্দেশ দেন বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ। সুপ্রিম কোর্টের ছয় আইনজীবীর করা এক রিট মামলায় চূড়ান্ত শুনানি শেষে এই রায় দিলেন আদালত। রায়ে আদালত মোট পাঁচ দফা নির্দেশনা দেন। 

রিট আবেদনকারী আইনজীবীরা হলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার, ব্যারিস্টার মো. মাজেদুল কাদের, ব্যারিস্টার মোজাম্মেল হক ও ব্যারিস্টার সাজ্জাদুল ইসলাম। তাঁরা নিজেরাই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি ওয়ায়েস আল হারুনী।

রায়ের পাঁচ দফা নির্দেশনায় বলা হয়েছে—এক. অবিলম্বে সব ইন্টারনেটভিত্তিক কম্পানি যেমন—গুগল, ফেসবুক, ইউটিউব, অ্যামাজন কম্পানিগুলোকে পরিশোধিত অর্থ থেকে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সব ধরনের ট্যাক্স, ভ্যাট এবং অন্যান্য রাজস্ব আদায় করতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক, বিটিআরসিসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো এই আদেশ প্রতিপালন করবে। দুই. ইন্টারনেটভিত্তিক কম্পানিগুলোকে বাংলাদেশ থেকে এ পর্যন্ত পরিশোধিত অর্থের বিপরীতে আনুপাতিক হারে বকেয়া রাজস্ব আদায় করতে হবে। তিন. ওই রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রতি ছয় মাস অন্তর হলফনামা আকারে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করবে। চার. এই রায়টি একটি চলমান আদেশ বা কন্টিনিউয়াস ম্যানডামাস হিসেবে বলবত্ থাকবে। পাঁচ. এই রায়ের বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক যেকোনো সময় আদালতে আবেদন দাখিল করে প্রতিকার চাইতে পারবেন।

রায়ের পর ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব সাংবাদিকদের জানান, গুগল-ফেসবুক এবং অন্যান্য ইন্টারনেট কম্পানির বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার বিষয় এবং বাংলাদেশের রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনসাধনের লক্ষ্যে জনস্বার্থে রিট আবেদন দাখিল করা হয়। এই রিট আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিবাদীদের প্রতি পাঁচটি নির্দেশনা জারি করেছেন।

রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল রিট আবেদন করা হয়। রিট আবেদনে বলা হয়, প্রযুক্তির যুগে গুগল, ফেসবুক এখন প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দিন দিন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। এই কারণে সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। এই সুযোগে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে এ দেশ থেকে কোটি কোটি ডলার নিয়ে যাচ্ছে ইন্টারনেটসংশ্লিষ্ট বিশ্বের নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু সরকারকে এক টাকাও রাজস্ব দিচ্ছে না তারা। এই রিট আবেদনে হাইকোর্ট ওই বছরের ১২ এপ্রিল রুল জারি করেন। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেন। রুলে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে রাজস্ব আদায়ে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। 

এ ছাড়া বিজ্ঞাপন, ডোমেইন বিক্রি, লাইসেন্স ফিসহ সব ধরনের লেনদেনের বিপরীতে এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে আদায়যোগ্য উেস কর, শুল্কসহ সব ধরনের রাজস্ব আদায়ে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়। অর্থ, আইন, তথ্য, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, বিটিআরসির চেয়ারম্যান এবং গুগল, ফেসবুক, ইয়াহু ও ইউটিউব কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এই রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গতকাল রায় দেওয়া হয়েছে।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে