গণমানুষের নিরাপত্তায় বাজেটে ৯৫,৫৭৪ কোটি টাকা বরাদ্দ

শুক্রবার, জুন ১২, ২০২০,৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
0
6

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

নিম্ন আয়ের মানুষ করোনাভাইরাসের প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির এক গবেষণায় উঠে এসেছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটিতে কাজ হারিয়েছে তিন কোটি ৬০ লাখ মানুষ। অর্থনীতি সমিতি বলেছে, ২৬ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত চলা ছুটির সময়ে সব মিলিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে ছয় কোটি ১৫ লাখ মানুষ।

সরকার বিশাল এই জনগোষ্ঠীকে সহযোগিতা করতে আগামী অর্থবছরের (২০২০-২১) প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে বরাদ্দও বাড়াতে যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তাঁর বাজেট বক্তৃতায় বলেন, সামাজিক সুরক্ষা খাতে প্রস্তাবিত বাজেটে ৯৫,৫৭৪ কোটি টাকা রাখা হয়েছে, যা বাজেটের ১৬.৮৩ শতাংশ এবং জিডিপির ৩.০১ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ ছিল ৮১,৮৬৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে আগামী অর্থবছরে বাজেটে সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ বাড়ছে ১৩,৭০৯ কোটি টাকা।

টানা দুই মাসেরও বেশি সময়ের সাধারণ ছুটিতে বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ। এত দিন যারা দারিদ্র্যসীমার ওপরে ছিল, করোনার কারণে অনেকে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় সেসব বিষয় উঠে এসেছে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সাধারণ ছুটি ঘোষণা, লকডাউন, শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকার কারণে সাধারণ মানুষের আয় কমে গেছে। এর ফলে দারিদ্র্য নিরাপত্তায় সরকারের অর্জন ঝুঁকিতে পড়েছে।

করোনা মহামারির কারণে সবচেয়ে দারিদ্র্যপ্রবণ ১০০টি উপজেলায় সব দরিদ্র প্রবীণ ব্যক্তিকে বয়স্ক ভাতার আওতায় আনা হবে। এতে করে পাঁচ লাখ নতুন উপকারভোগী যোগ হবে এবং এই খাতে ৩০০ কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, করোনার কারণে সবচেয়ে দারিদ্র্যপ্রবণ ১০০ উপজেলায় সব বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতার আওতায় আনা হবে। এতে তিন লাখ ৫০ হাজার বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্তা ভাতার আওতায় আসবে। এই খাতে ২১০ কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেটে নতুন করে দুই লাখ ৫৫ হাজার নতুন অসচ্ছল প্রতিবন্ধী সামাজিক সুরক্ষায় যোগ হবে। সব মিলিয়ে সামাজিক সুরক্ষায় নতুন করে ১১ লাখ মানুষ যুক্ত হবে। সব মিলিয়ে সামাজিক সুরক্ষা খাতে ৯১ লাখ মানুষ অন্তর্ভুক্ত হবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবস্থা উন্নয়নে সরকার প্রতিবছর সামাজিক সুরক্ষার আওতা বাড়াচ্ছে। করোনাভাইরাসসৃষ্ট রোগ কডিভ-১৯-এর প্রকোপের কারণে অনেকে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। ৫০ লাখ পরিবারকে সরকার ২৫০০ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে হিসাবে এর সুফল পাবে দুই কোটি মানুষ। সরকারের এই প্রণোদনার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে। করোনাজনিত আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে এবং গ্রামে বসবাসরত দরিদ্র, দুস্থ ও অসহায় মানুষের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রমের জন্য ১০০ কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মাতৃত্বকালীন ভাতা, ভিজিডি কার্যক্রম, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা, অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান—এসব কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে