গণপরিবহনে নারী ও কন্যা শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতে মহিলা পরিষদের মতবিনিময় সভা

বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০,৯:২৯ পূর্বাহ্ণ
0
61

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

গত মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ‘গণপরিবহনে নারী ও কন্যা শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ঢাকা মহানগর শাখার আন্দোলন উপ-পরিষদের উদ্যোগে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মাহাতাবুন নেসা, সভাপতি, ঢাকা মহানগর শাখা, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন , বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের, ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনুস।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সবাইকে সাদর অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন চার দশকের অধিক সময় ধরে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ও নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যূতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে আসছে। তার ধারাবধিকতায় গণপরিবহনে নারী বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করার আহ্বান জানান।

মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা মহানগর শাখার আন্দোলন সম্পাদক জুয়েলা জেবুননেসা খান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন সাম্প্রতিককালে গণপরিবহনে নারী নির্যাতনের যে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে তাতে জনমনে যথেষ্ট উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার উপায় ও কিভাবে ঢাকা মহানগরের গণপরিবহনকে নারীবান্ধব করে গড়ে তোলা যায় তার উপর আপনাদের সুচিন্তিত মতামতের জন্যই আজকের এই মতবিনিময় সভা আহ্বান করা হয়েছে।
গণপরিবহনে নারীর প্রতি সহিংসতা ও নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের জন্য ২০টি সুপারিশ উপস্থাপন করেন করেন। কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত আন্দোলন সম্পাদক রেখা চৌধুরী বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ।

অতিথিবৃন্দের আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক , কলামিষ্ট, গবেষক, প্রাবন্ধিক, লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ (ঢা:বি)অধ্যাপক ড. এ. আই. মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় প্রেস ক্লাব এর সভাপতি দৈনিক যুগান্তর এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, শ্যামলী পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ, শিক্ষা ও কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানী (ঢা:বি:) ড. মেহজাবীন হক, যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক, ডাইরেক্টর অব ইনফোর্সমেন্ট (বিআরটিএ) মাসুদুর রহমান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক’র সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মোখলেসুর রহমান, রোড সেফটি ফাউন্ডেশন নির্বাহী সম্পাদক সাইদুর রহমান।

সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে বিশিষ্ট সাংবাদিক , কলামিষ্ট, গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকারি সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ সহ বাস মালিক সমিতি সকলকে গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। গণপরিবহনে নারী ও স্কুল কলেজের মেয়েদের প্রায়ই ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনে চলাচল কতে হচ্ছে। গণপরিবহনের চলাচলে নারীর জন্য প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী,যোগাযোগ মন্ত্রী থাকবেন,আমি আপনাদের দাবীর কথা সেখানে উপস্থাপন কবর।

দৈনিক যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জনাব সাইফুল আলম বলেন, গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সামাজিক সচেতনার সৃষ্টি করতে হবে। নাররি প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা উচিত। পরিবহন সেক্টরকে আরও উন্নত করতে হবে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, শ্যামলী পরিবহন ও বাস এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, , গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের সকলকে গণসচেতনার দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। আইনের প্রয়োগ সঠিকভাবে বাস্তবায়িত করতে হবে।

ডাইরেক্টর অব ইনফোর্সমেন্ট (বিআরটিএ) মাসুদুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমি এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে যে দাবি করা হয়েছে তা খুবই যৌক্তিক। এবং এরই সাথে বলতে চাই যে, এই দাবিগুলো আমাদের ১১১ সড়ক কাউন্সিল আইনের মধ্যে উল্লেখ রয়েছে। আমরা ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে কাজ করে যাচ্ছি। কোনো নারীই যেন কোনো প্রকার হেনস্থার শিকার না হয় তাঁর জন্য যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ করছি। সম্প্রতি ঢাকার কিছু বাসের সমস্ত অংশে বিজ্ঞাপন জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যা আমাদের নজরে এসেছে। আমরা এই বাসগুলোর মধ্যে ৪ টি বাসকে আটক করেছি এবং প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছি। সেই সাথে আগামী ৭ দিনের মধ্যে সমস্ত রকম বিজ্ঞাপন অপসরণ করার নির্দেশ দিয়েছি। গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা নানান রকম কাজ করে যাচ্ছি।আমরা আশাবাদী দ্রুতই আমরা এই সমস্যা ঐক্যবদ্ধভাবে নিরসন করতে পারবো।

শিক্ষা ও কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানী (ঢা:বি) ড.মেহজাবীন হক বলেন, গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের মন মানসিকতার পরিবর্তন আগে না করলেও আইন করে সুফল পাওয়া যাবে না। যার যার অবস্থান থেকে চেষ্টা করলে পরিবর্তন আনা সম্ভব। মেয়েদের নিজেদের ব্যাপারে আরও পজিটিভ থাকতে হবে। নারীর নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পরিবার থেকে শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা নগর নারী বান্ধব হিসেবে, নারীর জন্য নিরাপদ নগর হিসেবে গড়ে উঠুক এই আহ্বান জানিয়ে আজকের সভা আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন ভারপ্রাপ্ত আন্দোলন সম্পাদক রেখা চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, জাতীয় ইস্যুতে যখনই নারীর ইস্যু প্রকট হয়ে দেখা দেয় তখন নতুন নতুন আইন হয়। কিন্তু আইনের সুষ্ঠ প্রয়োগ খুব একটা চোখে পড়ে না। আইনের প্রয়োগের কথা আসলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা কথা চলে আসে। নারীবান্ধব গণপরিবহনের অভাব, রাস্তাঘাটে চলাচলে নারীর জন্য নারীবান্ধব পরিবেশ িৈতরি করা ইচিত।

মাহাতাবুন নেসা সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর শাখার আয়োজিত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সকলকে আন্তরিত অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আসুন গণপরিবহনের চলাচলে নারীর প্রতি যৌন সহিংসতা ও প্রতিবন্ধকতা দূর করে সামাজিক-ব্যক্তিগত সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার করে একটি সুন্দর মহানগরী গড়ে তুলি।
মতবিনিময় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠন সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম, প্রকাশনা সম্পাদক সারাবান তহুরা এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভা সঞ্চালনা করেন মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মঞ্জু ধর।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে