খালেদা জিয়ার পক্ষে রিট আবেদনের শুনানি আজ

সোমবার, মে ২৭, ২০১৯,৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ
0
278

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার বিচারের জন্য কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে আদালত স্থানান্তর সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার পক্ষে গতকাল রবিবার তাঁর আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল  দাখিল করেছেন আবেদনটি। আজ সোমবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হবে বলে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানিয়েছেন ।

এর আগে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালত স্থানান্তরের প্রজ্ঞাপন বাতিল চেয়ে গত ২১ মে আইনসচিব বরাবর আইনি নোটিশ পাঠান কায়সার কামাল। নোটিশের কোনো জবাব না পেয়ে গতকাল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় দাখিল করা হয় রিট আবেদন ।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা ১৭টি মামলার বিচারের জন্য কেরানীগঞ্জ কারাভ্যন্তরের একটি ভবনে বিশেষ জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাস বসানোর সিদ্ধান্ত জানিয়ে গত ১২ মে আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ওই প্রজ্ঞাপন অনুসারে খালেদা জিয়ার মামলার শুনানির জন্য বিশেষ জজ আদালত-৯-এর অস্থায়ী এজলাস পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সরিয়ে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নেওয়া হয়। ওই আদালতে গত ১৯ মে নাইকো দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে ওই দিন শুনানিতে হাজির করা হয়নি। এ কারণে আগামী ৩০ মে মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়।

এ অবস্থায় ওই প্রজ্ঞাপন বেআইনি ও সংবিধানবিরোধী দাবি করে খালেদা জিয়ার পক্ষে রিট আবেদন করা হয়। রিট আবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো বিচার উন্মুক্তভাবে হতে হবে । উন্মুক্তভাবে বিচার হতে পারে না কারাগারের একটি কক্ষে ।

সাংবাদিকদের ব্যারিস্টার কায়সার কামাল  বলেন, কোথায় কোথায় বসবে আদালত  ফৌজদারি কার্যবিধিতেই বলে দেওয়া আছে । তিনি বলেন, ‘কার্যবিধি অনুযায়ী সকল ফৌজদারি মামলার বিচারকার্য পরিচালিত হয় । এই ফৌজদারি কার্যবিধির ৯(১) ও ৯(২) ধারায় আদালত বসানোর কথা রয়েছে। সেখানে কোথাও বলা নেই যে কারাভ্যন্তরে  স্থাপন করা যাবে আদালত। সুতরাং সংবিধান ও ফৌজদারি আইনের বিরুদ্ধে গিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, যা  মনে করি বেআইনি। আমরা এ বিষয়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছি।’

দুটি দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের (জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছর ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাত বছর) কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া কারাবন্দি । সাজা হওয়ার পর থেকে তাঁকে নাজিমউদ্দিন রোডে সাবেক ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের রাখা হয় একটি ভবনে  । সেখানেই একটি কক্ষে আদালত বসানো হয় তাঁর মামলার বিচারের জন্য। সর্বশেষ গত ১ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় বিএসএমএমইউ হাসপাতালে । সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে