কোয়াডে বাংলাদেশ যোগ দিলে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ‘যথেষ্ট খারাপ’ হবে : চীনা রাষ্ট্রদূত

সোমবার, মে ১০, ২০২১,৮:১২ অপরাহ্ণ
0
27

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ‘কোয়াড্রিলেটারাল সিকিউরিটি ডায়ালগে (কোয়াড)’ বাংলাদেশ যোগ দিলে চীনের সঙ্গে এ দেশের সম্পর্ক ‘যথেষ্ট খারাপ’ হবে বলে। সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরে এই বার্তা দিয়েছেন চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী উই ফেঙহে।

সোমবার চীনের রাষ্ট্রদূত এ কথা জানান, বাংলাদেশে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন ডিকাবের সদস্যদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল আলোচনায়।

চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘‘চীন ‘কোয়াড’কে তার দেশের বিরূদ্ধে জোট হিসেবে দেখে। একটি চার দেশের একটি জোট। এটি চীনের জন্য কী তা আমরা সবাই জানি। এ কারণেই জাপান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।

উল্লেখ্য যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত ‘কোয়াডের’ সদস্য। এই জোটকে অনেকেই ‘এশিয়ান ন্যাটো’ বলে অভিহিত করে থাকেন। বাংলাদেশ ও চীন তাদের সম্পর্ককে ‘স্ট্র্যাটেজিক’ বলে উল্লেখ করে থাকে। চীন বাংলাদেশের বড় উন্নয়ন অংশীদার। চীনের ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড’ (এক বলয়, এক পথ) পরিকল্পনাতেও বাংলাদেশ যুক্ত হয়েছে।
কোয়াড প্রসঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা চাই না, বাংলাদেশ কোনোভাবেই এই জোটে অংশ নিক।’

রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, ‘ইতিহাসে বারবার প্রমাণিত হয়েছে যে এ ধরনের অংশীদারি আমাদের প্রতিবেশিদের নিজেদের সামাজিক, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের মঙ্গলকে নিশ্চিতভাবে ব্যাহত করে’ কোনো সামরিক জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এই নীতির আলোকে বাংলাদেশ সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছে। বাংলাদেশ কোনো সামরিক জোটে যোগ দেয়নি এবং যোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও নেই।

রোহিঙ্গা নিয়ে শীগগীরই কোনো ত্রিপক্ষীয় আলোচনা নয়: এদিকে ডিকাব সদস্যদের সঙ্গে আলোচনায় চীনের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে চীন যোগাযোগ করতে পারছে না। মিয়ানমারে পরিস্থিতিও এখন স্বাভাবিক নয়।

মিয়ানমারে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে চলমান সংঘাতের দিকে ইঙ্গিত করে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা অদূর ভবিষ্যতে ত্রিপক্ষীয় (বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীন) আলোচনার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি রিপোর্ট’ পেলে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে সক্রিয় হওয়ার ব্যাপারে চীন আন্তরিকভাবে বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, চীনে প্রস্তাব পাঠানোর বাছে বাংলাদেশের উচিত সমীক্ষা প্রতিবেদন সম্পন্ন করা।

ডিকাব সভাপতি পান্থ রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মঈনুদ্দীন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে