কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে গৃহবধু জান্নাতির ঠাই হল স্বামীর বাড়িতে!

রবিবার, মে ৩, ২০২০,১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
0
4

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

এজি লাভলু, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রাম উলিপুরের ধামশ্রেনী কাশিয়াগাড়ীতে ঝড় বৃষ্টিতে পরে থাকা এক গৃহবধুকে উদ্ধার করে উলিপুর থানা পুলিশ। পরে জানা যায়, নারায়ণগন্জ থেকে আসা গৃহবধু স্বামীর বাড়িতে আশ্রয় না পেয়ে পার্শবর্তী মাদ্রাসা মাঠে বসে পরে এবং রাত ৯ টা পর্যন্ত এভাবে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় গ্রামবাসী সরাসরি পুলিশ সুপারকে ফোন ও ছবিসহ মেসেজ করে। পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান (বিপিএম)-এর নির্দেশনায় উলিপুর থানা পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে জান্নাতিকে  উদ্ধার করে ও  স্বামীর বাড়িতে উঠানোর ব্যবস্থা করে বলে জানা যায়।    

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধামশ্রেনী কাশিয়াগাড়ীর মৃত আবুল হোসেনের  কনিষ্ঠ পুত্র  শাওন মিয়া নারায়ণগঞ্জ বিসিক গার্মেন্টসে চাকুরি করার সুবাদে মোহনপুর নিবাসী জনৈক কালু মিয়ার কন্যা জান্নাতি বেগমের সাথে পরিচয় ও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। গার্মেন্টসে চাকুরিরত স্বামী স্ত্রীর দাম্পত্য জীবনে দেড় বছর বয়সের সিনথিয়া নামক এক ফুটফুটে কন্যা সন্তান রয়েছে। গত ১০ দিন পুর্বে শাওন তার স্ত্রীকে কিছু না বলে কোলের শিশু সিনথিয়াকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে উলিপুর কাশিয়াগাড়ী তার নিজ বাড়িতে পালিয়ে আসে বলে জান্নাতি বেগম জানায়। বিভিন্ন স্থানে খোজাখুজি করে না পেয়ে সে উলিপুর স্বামীর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং করোনাভাইরাস লক ডাউনে পায়ে হেটে, অটো রিক্সা ও পিক আপে চড়ে অনেক কষ্টে ১ মে ২০২০ ইং শুক্রবার বিকেলে ধামশ্রেনীতে তার স্বামী শাওনের বাড়িতে উপস্থিত হয়।

এলাকা বাসী জানায়, দাম্পত্যকলহের জের ধরে  জান্নাতিকে স্বামী ও শ্বাশুড়ি বাড়িতে ঢুকতে না দিলে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মন্টু মিয়া  বিষয়টি  হস্তক্ষেপ করেন। মীমাংসা না হলে   মেম্বার নিজ বাড়িতে তাকে  রাখার কথা বলেন, কিন্তু  ঐ গৃহবধু তা না মেনে স্বামী সন্তানের সাথেই থাকতে চান এমন দাবীতে বাড়ীর পাশে মাদ্রাসা মাঠে বসে পরে এবং কান্নাজড়িত কন্ঠে সন্তান ও স্বামী  ফিরে না পেলে আত্মহত্যার হুমকি দেয় ।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাতের আধারে ঝড়বৃষ্টিতে পড়ে থাকা গৃহবধু নিরাপত্তাহীন এমন তথ্যে পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খানের নির্দেশনায়  রাত ৯ টার দিকে উলিপুর থানা পুলিশ প্রশাসনের একটি পিক আপ ভ্যান ঘটনাস্থলে এসে জান্নাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ও  মৃত আবুল হোসেনের  বাড়িতে স্থানীয় লোকজন সহ  শাওন ও তার পরিবারের সদস্যদের বুঝিয়ে সিনথিয়ার মা জান্নাতিকে ঘরে উঠানোর ব্যবস্থা করা হয় বলে জানান টিমে আসা উলিপুর থানার তদন্ত অফিসার  আনোয়ারুল ইসলাম।

২ মে (শনিবার) জানা যায়, একটি ঘরে জান্নাতিকে থাকতে দেয়া হয়েছে। শিশুকন্যাকে কোলে দেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে জান্নাতি বলেন, নারায়ণগন্জ থেকে আসায় ১৪ দিন তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।  তার স্বামী ১০ দিন আগে থেকে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে, এমনটা নিশ্চিত করেছে শাওন নিজে ও তার পরিবার। শিশুকন্যা সিনথিয়া তার দাদীর কাছে আছে তা  জানিয়ে সিনথিয়ার মা জান্নাতি বলেন, “মা হয়ে সন্তানকে চোখের সামনে দেখতে পাই, শান্তি পাই “। ১৪ দিন পর তার সন্তান ও সংসার স্বামী  ফিরে পেতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন গৃহবধু  জান্নাতি বেগম।

এ পরিস্থিতিতে কুড়িগ্রাম জেলার মানবিক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান (বিপিএম) হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা গৃহবধুর জন্য খাদ্য সামগ্রী হিসেবে এক সপ্তাহের চাল, ডাল, তেল  আলু ও সাবানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন বলে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী কর্মীরা নিশ্চিত করেছেন।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে