কুড়িগ্রাম এসপি’র নির্দেশনায় মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজা, ইয়াবাসহ আটক ৬ জন

বুধবার, জুন ১৭, ২০২০,৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ
0
5

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

এজি লাভলু, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বিপিএম।  জানা যায় পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় অব্যাহতভাবে পরিচালিত হচ্ছে সকল থানা পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান।

অভিযানের ধারাবাহিকতায় গত সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর রাত পর্যন্ত জেলার তিনটি থানা ফুলবাড়ি, উলিপুর ও চর রাজিবপুর থানায় পুলিশের অভিযানে গাজা ও ইয়াবা এবং ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় পৃথক তিনটি অভিযানে আটক হয়েছে সর্বমোট ৬ জন।

ফুলবাড়ী থানা পুলিশ মাদক বিরোধী অভিযানে উপজেলার কাশিপুর হতে ২ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক চোরাকারবারিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আটককৃত মাদক চোরাকারবারির নাম মোঃ জাকির হোসেন(২০)। সে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে অনন্তপুর (বেড়াকুটি) গ্রামের জহুরুল হকের ছেলে।

ফুলবাড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) নবিউল হাসান জানান, আটক মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে  সোমবার (১৫ জুন) রাত ৮ টার দিকে উলিপুর থানার এসআই আরিফুর রহমান গোপন সূত্রে খবর পেয়ে একদল পুলিশসহ মুন্সিপাড়াস্থ বটতলা মোড়ে এক বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এ সময় নেশাগ্রস্থ অবস্থায়  ৩জন মাদক সেবিকে ইয়াবা সেবনে ইয়াবাসহ আটক করে। মুন্সীপাড়ার সজীব, জোদ্দার পাড়ার মো. আমজাদ হোসেনের ছেলে রাশেদ মিয়া (২৬) এবং পাঠান পাড়ার মৃত. আ. কাইয়ুমের ছেলে রুবেল হোসেন।

উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটক আসামীদের বিরুদ্ধে মাদক বিরোধী আইনে মামলা রুজু করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

অপরদিকে চর রাজীবপুর থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৬ জুন মঙ্গলবার সকাল ১১টায় উপজেলার সুইসগেট এলাকায়  মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে  ৬৫ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট, একটি মটরবাইক ও তিনটি মোবাইল সেট সহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। আটক দুইজন হলো জামালপুর ইসলামপুর নায়নাকুুুড়া গ্রামের আবুল হোসেনের পুত্র মির্জা শাকিল এবং একই এলাকার সুগার মিল বাজারের  মৃত নয়ন আলীর ছেলে মনিরুজ্জামান মনির বলে জানা গেছে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রাজিবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোর্শেদ তালুকদার জানান, “আটককৃতদের বিরুদ্ধে ২০১৮/৩৬(১), স্মারণী-১০(ক) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে জেল-হাজতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।”

উল্লেখ্য করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় পুলিশ জনসচেতনতা সৃষ্টি, লকডাউন নিশ্চিত, গণপরিবহন তদারকি, জমায়েত ও ভীড়ভার নিয়ন্ত্রণ, মানবিক কার্যক্রম, পুলিশি টহল, রুটিন ওয়ার্ক সব ধরনের কাজেই পুলিশ দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় দুই তিনটি থানা এলাকায় ভারতীয় মাদক দ্রব্য গাজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা সেবন ও বেচাকেনার প্রভাব এই সুযোগে পরিলক্ষিত হওয়ায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান বিপিএম মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারী দেখিয়ে মাদক অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। ইতিমধ্যে বেশকিছু মাদকদ্রব্য সহ অনেক মাদকব্যবসায়ী আটকও হয়েছেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মাদক বিরোধী অভিযান চলবে এবং মাদকসেবি দের ধরতেও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর কথা জানা গেছে।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে