কিশোরগঞ্জে একদিনে রেকর্ড সংখ্যক ৬৭ জন করোনায় আক্রান্ত

শুক্রবার, জুন ২৫, ২০২১,৯:৪০ পূর্বাহ্ণ
0
17

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

আল-মামুন খান, তাড়াইল(কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ সংক্রমণ। জেলার করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) রাতে প্রকাশিত রিপোর্টেও সংক্রমণের উর্ধ্বগতির ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।সর্বশেষ রিপোর্টে জেলায় মোট ৬৭ জন নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর বিপরীতে করোনাভাইরাস মুক্ত হয়ে জেলায় এক দিনে সুস্থ হয়েছেন মোট ৩০ জন।

তবে জেলায় নতুন কোন মৃত্যু নেই। এ পরিস্থিতিতে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বর্তমান রোগীর সংখ্যা আরো ৩৭ জন বেড়েছে। আগের দিন বুধবার (২৩ জুন) জেলায় বর্তমান আক্রান্তের মোট রোগীর সংখ্যা ছিল ৪১৫ জন। ফলে বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) বর্তমান রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে মোট ৪৫২ জন।

জেলায় নতুন করোনা শনাক্ত হওয়া মোট ৬৭ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ৫৩ জন শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া বাকি ১৪ জনের মধ্যে করিমগঞ্জ উপজেলায় ২ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলায় ৩ জন, কটিয়াদী উপজেলায় ৫ জন, কুলিয়ারচর উপজেলায় ২ জন, নিকলী উপজেলায় ১ জন এবং বাজিতপুর ‍উপজেলায় ১ জন শনাক্ত হয়েছে। ফলে শনাক্ত, সুস্থ ও মৃত্যু সব সূচকেই জেলার মধ্যে শীর্ষে থাকা কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, জেলায় বর্তমান মোট রোগী ৪৫২ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৩৮ জন, হোসেনপুর উপজেলায় ৬ জন, করিমগঞ্জ উপজেলায় ১৩ জন, তাড়াইল উপজেলায় ১২ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলায় ২৫ জন, কটিয়াদী উপজেলায় ২১ জন, কুলিয়ারচর উপজেলায় ১১ জন, ভৈরব উপজেলায় ১০ জন, নিকলী উপজেলায় ৩ জন, বাজিতপুর উপজেলায় ১০ জন এবং ইটনা উপজেলায় ৩ জন রয়েছেন।

এছাড়া জেলায় করোনায় মোট মৃত্যু ৮৭ জনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩২ জন মৃত্যুবরণ করেছেন।
কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের আরটি-পিসিআর ল্যাবে হাসপাতালটির প্রি-আইসোলেশনে ভর্তিকৃত জরুরী রোগীসহ বুধবার (২৩ জুন) ও বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) সংগৃহীত মোট ৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬১ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে। এ রিপোর্টে মোট ২৫৫ জনের নমুনা পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৬১ জনের মধ্যে ৭২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরটি-পিসিআর ল্যাবে। সেখানে বুধবার (২৩ জুন) এই ৭২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে। এছাড়া হোসেনপুর, করিমগঞ্জ, তাড়াইল, পাকুন্দিয়া ও ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮৯ জনের রেপিড এন্টিজেন টেস্টে ৩ জনের কোভিড-১৯ পজেটিভ এসেছে। নতুন সুস্থ হওয়া ৩০ জনের মধ্যে ২৬ জন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার। এছাড়া বাকি ৪ জনের মধ্যে কটিয়াদী উপজেলার ১ জন ও ভৈরব উপজেলার ৩ জন রয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে বর্তমানে আক্রান্ত ও সন্দেহজনক মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৭৫ জন যাদের মধ্যে ৯ জন আইসিইউতে রয়েছেন। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন ৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ৪ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।

এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ৫৪৫৪ জন শনাক্ত, ৪৯১৫ জন সুস্থ এবং ৮৭ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। বর্তমানে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ৪৫২ জন। তাদের মধ্যে ৩২ জন হাসপাতালে ও ৪২০ জন হোম আইসোলেশনে রয়েছেন।
জেলার মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম এ দুই হাওর উপজেলায় বর্তমানে করোনা আক্রান্ত কোন রোগী নেই।

এদিকে গত ৭ই ফেব্রুয়ারি ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর গত ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৭৬ হাজার ৬৬৫ জন প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন। এরপর শনিবার (১৯ জুন) থেকে সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেয়া শুরু হয়েছে।

এ পর্যন্ত মোট ৯৫৮ জন সাইনোফার্ম ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় ২৭৩ জন এ ভ্যাকসিন নিয়েছেন। অন্যদিকে গত ৮ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫৯ হাজার ২৮৭ জন দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছেন। কিশোরগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. মুজিবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে