কর্মীদের বেতন-বোনাস দিতে প্রণোদনা চায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মাদার টেক্সটাইল

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২২, ২০২১,২:৫৬ অপরাহ্ণ
0
19

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

আজহারুল ইসলাম জনি (গাজীপুর) : গত ১৬ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুরের পোশাক কারখানা মাদার টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড নামের এই কারখানাটিতে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।  হঠাৎ বিকট শব্দ করে আগুন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
কারখানার ব্লোয়িং সেকশন, ড্রায়িং সেকশন ও কার্ডিং সেকশনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন। এবং মুহূর্তেই আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট আগুন লেভানোর কাজ করে।  পরদিন সকাল ৮টার দিকে আগুন নেভাতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিস।

এই কারখানায় মোট ৫টি ইউনিট ছিল, তার মধ্যে ৩টিই পুড়ে গেছে। এতে কারখানাটির প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এলিজা সুলতান।

এ বিষয়ে বুধবার (২১ এপ্রিল) শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ও বেতন দিতে সরকারের কাছ থেকে প্রণোদনা চেয়েছেন সম্প্রতি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত গাজীপুরের কাশিমপুরের পোশাক কারখানা মাদার টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এলিজা সুলতান।
কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, এই কারখানাটিতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ শ্রমিক কাজ করেন। তাদের পরিবারের সদস্যসহ প্রায় ৬ হাজার মানুষের ভরণ-পোষণের উৎস এই কারখানা।
বর্তমানে ‘আমার কারখানায় এখন উৎপাদন পুরোটাই বন্ধ। এখন সামনে ঈদ। তাদের বেতন ও ঈদের বোনাস কীভাবে দেব, বুঝতে পারছি না।’

তিনি আরো বলেন,‘গত বছর করোনার সময় আমরা সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের কিছুই পাইনি। এবার সরকারের প্রণোদনা থেকে ঈদের বোনাসটা দিয়ে আমাকে যেন সহযোগিতা করে।’

কারখানার বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ‘এখন আমার যে দুটি ইউনিট আছে, এগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। এছাড়া আমার আর কোনো রাস্তা নাই।
অল্প সময়ের মধ্যে এই দুই ইউনিটকে রপ্তানিতে নিতে পারলে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারব। এজন্য আমার ঋণপত্রের যে সুবিধা, এলসি খোলার সুবিধা বন্ধ আছে, সেটা দিতে হবে।
 আমি তো লোকাল থেকে তুলা কিনে কিনে মিল চালাচ্ছিলাম। এই ঋণপত্রের সুবিধা পাশ করা আছে ব্যাংকে। কিন্তু ব্যাংক আমাকে সুযোগটা দেয়নি।

এই সুযোগটা যদি দিয়ে দেয়, তাহলে আমি রপ্তানিতে চলে যাব। অন্তত দুইটা ইউনিট এক্সপোর্টে গেলে তখন আমি ১ বছরের মধ্যে শ্রমিকদের নিয়ে দাঁড়িয়ে যেতে পারবো।
আমার যেটা পাশ করা আছে, সেটা ব্যাংক ধরে রেখেছে, এটা তারা ছেড়ে দিক। এছাড়া তো আমি কোনো রাস্তা দেখতে পাচ্ছি না।’
বুধবার এসব বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে (বিটিএমইএ) বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠিও দিয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানাটি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, তারা বলেছে, সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।

আগুন লাগলেও বীমার সহযোগিতা না পাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে এলিজা সুলতানা বলেন, ‘রূপালী ব্যাংকের কিস্তি কিছুদিন আগে দিলাম। বীমার কিস্তি অনিয়মিত রয়ে গেছে। তাই এ বীমার চেকের ক্লিয়ারেন্স হয় নাই।

এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদে মেশিন বসিয়ে পুনরায় কারখানা চালু করার ক্ষেত্রেও সরকার ও সংশ্লিষ্টদের কাছে সহযোগিতা চাচ্ছেন কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে