করোনা টেস্ট জুটেনি সাংবাদিক অপুর ভাগ্যে

বৃহস্পতিবার, মে ৭, ২০২০,৪:৪৬ অপরাহ্ণ
0
8

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

করোনার উপসর্গ নিয়ে ১৩ দিন বাসায় আইসোলেটেড অবস্থায় থাকলেও করোনা টেস্ট ভাগ্যে জুটেনি সাংবাদিক মাহমুদুদল হাকিম অপুর। মৃত্যুর পরও তার ভাগ্যে জুটেনি করোনার টেস্ট। একমাত্র উপর্জনোক্ষম ব্যক্তির মুত্যুতে পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে সাংবাদিক অপুর পরিবার।

এক সময়ের স্পোর্টস রিপোর্টার সময়ের আলো পত্রিকা সিনিয়র সাব এডিটর মাহমুদুল হাকিম অপু গত বুধবার রাতে মারা যান। সেহরির সময় পরিবারের লোকজন তাকে জাগাতে গেলে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ওই দিন বিকেলে তাঁকে আঞ্জুমানে মারকাজুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে মোহাম্মদপুরের বসিলা গোরস্তানে দাফন করা হয়েছে।

সাংবাদিক অপুর স্ত্রীর আরিফা সুলতানা পলি জানিয়েছেন, অপু অসুস্থ্য হয়ে পড়ার পর রোজার দুইদিন আগে (২৩ এপ্রিল) থেকে আর অফিসে যেতে পারছিলেন না। জ্বর, খাবারে অরুচি ও কাশির মতো উপসর্গ থাকার কারণে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের সন্ধেহ হওয়ায় তিনি নিজ বাসায় আলাদা রুমে আইসোলেটেড অবস্থায় ছিলেন। কোনো কিছু খেতে দিলে গন্ধ লাগছে বলে কিছুই খেতে পারতেন না। এ কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন।

পলি জানান, অপু তাঁর ভাগনা (বড়বোনের ছেলে) ডা. টুটুলের পরামর্শে ওষুধ সেবন করছিলেন। ডা. টুটুল করোনা পরীক্ষার পরামর্শ দিলেও অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পড়ায় কোথাও গিয়ে পরীক্ষা করার মতো শারীরিক সক্ষমতা তাঁর ছিল না। আর বাসায় থেকে পরীক্ষা করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও সফল হননি।

অপুর ভাই শওকতুল হাকিম দিপু জানান, অপু মারা যাওয়ার পর করোনা পরীক্ষা করার জন্য আইইডিসিআর-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষাও করা হয়েছিল। কিন্তু আইইডিসিআর থেকে জানানো হয়, এসে সেম্পুল নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সেখান থেকে আঞ্জুমানে মারকাজুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করার পরামর্শ দেওয়া হলে সে মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়। স্থানীয় একটি হাসপাতাল থেকে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন বলে সনদপত্র নিয়ে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপুর পরিবারের সদস্যদের করোনা পরীক্ষার কোনো উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

উল্লেখ যে, গত ২৮ এপ্রিল সময়ের আলো পত্রিকার নগর সম্পাদক ও চিফ রিপোর্টার হুমায়ুন কবির খোকন করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যান। মৃত্যুর পর তার করোনা টেস্টের রিপোর্ট পজেটিভ আসে। সাংবাদিক খোকনের স্ত্রী ও ছেলে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সময়ের আলো পত্রিকার আরও বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী করোনার উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ্যতায় ভুগছেন। এর মধ্যে ৬ কর্মী করোনা পজেটিভ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, সাংবাদিক অপুর মৃত্যুতে নিজেদের ভবিষ্যত, সন্তানদের পড়ালেখা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে তাঁর পরিবার। আরিফা সুলতানা পলি জানান, অপুর যে উপার্জন ছিল তা দিয়ে সংসার এবং বাচ্চাদের লেখাপড়া চলতো। এখন পরিবারের একমাত্র উপার্জনোক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুর পর পরিবারটি কিভাবে চলবে তা তারা জানেন। সময়ের আলো পত্রিকার কর্তৃপক্ষ থেকে যোগাযোগ করে তাদের দেখভাল করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

অপুর পরিবার রাজধানীর বনশ্রী আবাসিক এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। অপুর স্ত্রী গৃহিনী। তাদের দুই সন্তান ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলে পড়ালেখা করে। বড় সন্তান মাহমুদ আরাবী অক্ষর পড়ে দশম শ্রেণিতে আর ছোট সন্তান তাসিন মাহমুদ পড়ে অষ্টম শ্রেণিতে।

খবর : কালের কন্ঠ

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে