করনোভাইরাস নিয়ে আলোচনায় সংসদে বিশেষ অধিবেশনের আহ্বান ওয়ার্কার্স পার্টির

বৃহস্পতিবার, মার্চ ৫, ২০২০,৯:২৫ পূর্বাহ্ণ
0
71

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

“করনোভাইরাস যাকে বর্তমানে কভেড-১৯ নামে অভিহিত করা হয়েছে এখন বিশ্বমহামারীরূপে দেখা দেখা দিয়েছে। চীনের উহান প্রদেশের এর প্রথম বহিঃপ্রকাশ ঘটলেও বিজ্ঞানীরা এখনও এর উৎস বা কারণ জানতে পারেনি। এখনও পর্যন্ত এর প্রতিষেধক ঔষধও আবিস্কৃত হয়নি। ফলে এই রোগ বিস্তারের ক্ষেত্রে প্রতিরোধ ব্যবস্থাই একমাত্র উপায় হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।

কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এব্যাপারে কার্য্যকর প্রতিরোধের নানাবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও, বাংলাদেশের এ সম্পর্কে যে প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে তা নিতান্ত অপ্রতুলই নয়, কার্য্যতঃ অনুপস্থিত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ব বিভাগ এ বিষয়ে সার্বক্ষনিক সজাগ থাকলেও ও জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক করলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে ডেঙ্গু পরিস্থিতির মতই ব্যর্থতায় পরিচয় দিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে যেমন উপেক্ষা-উপহাসের মনোভাব দেখিয়ে ছিল, এক্ষেত্রেও তাই। দেশের বিমান বন্দর, স্থল বন্দর ও নৌ-বন্দরে আগমনী যাত্রীদের পরীক্ষা করার ব্যবস্থা কার্য্যতঃ অনুপস্থিত। পত্রিকার খবরে প্রকাশ বহু টাকা দিয়ে সদ্য কেনা থার্মাল স্কানিং মেশিনের ৭টির মধ্যে ৬টি অচল। আক্রান্ত রোগীর কোয়ারেন্টাইনের ক্ষেত্রে এ্যাডহক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের হিসাব জনগণের স্বাস্থ্য বা জীবন নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এর কি প্রভাব পড়ছে সেটাই মুখ্য।

কেবল তাই নয়, করনোভাইরাসকে কেন্দ্র পশ্চিমা প্রচার মাধ্যমের অনুসারণে চীন বিরোধী প্রচার এখন তুঙ্গে। করনোভাইরাস আক্রান্তদের গুলি করে মেরে ফেলা হচ্ছে, পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে, হচ্ছে-ইউটিউবে এ ধরনের তৈরী করা ভিত্তিও-র ছড়াছড়ি। অন্যদিকে ধর্মব্যবসায়ী মোল্লারা একে চীন ও কমিউনিস্ট বিরোধীতার বিষয় হিসাবে ওয়াজে, ইটিউবে যথেচ্ছা প্রচার করছে। করনোভাইরাসের মত অজানা রোগের প্রাদুর্ভার পৃথিবীতে নতুন নয়। অতীতে প্লেগ, কালাজ¦র, কলেরাসহ বিভিন্ন রোগ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে মহামারী আকারে দেখা দিয়েছিল। সম্প্রতি সময়ে সোয়াইন ফ্লু, নিপা ভাইরাস, ইবোলা প্রভৃতি সীমিত আকারে হলেও বিশ্বমহামারীতে রূপ নিয়েছিল।

এই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি মনে করে এধরনের মহামারী প্রতিরোধে বিজ্ঞানীদের প্রচেষ্টায় সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান দেয়া এবং এর বিস্তৃতি রোধে সব ধরণের কার্য্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরী, যে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কেবল পিছিয়েই নেই। কিছুটা হলেও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিচ্ছে। এটা অব্যাহত থাকলে ঘনবসতিপূর্ণ বাংলাদেশকে চরমমূল্য দিতে হবে।

ওয়ার্কার্স পার্টি এব্যাপারে সরকারসহ সকল সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে এ ব্যাপারে কার্য্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে এবং এ ব্যাপারে জাতীয় সচেতনতা গড়ে তোলা ও জাতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জরুরী ভিত্তিতে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।” গতকাল পলিটব্যুরো সান্ধকালীন অধিবেশনে উপরোক্ত প্রস্তাব গৃহীত হয়। পলিটব্যুরো এই সভায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি সভাপতিত্ব করেন। পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। আলোচনায় অংশ নেন পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক, কমরেড ড. সুশান্ত দাস, কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক, কমরেড নূর আহমদ বকুল, কমরেড কামরূল আহসান, কমরেড এ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, কমরেড হাজী বশিরুল আলম, কমরেড নজরুল ইসলাম হক্কানী, কমরেড এনামুল হক এমরান, কমরেড নজরুল হক নিলু।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে