কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

রবিবার, এপ্রিল ২৬, ২০২০,৪:৪৬ অপরাহ্ণ
0
321

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ এপ্রিল কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :
“প্রতি বছররের পরিক্রমায় এবারও বাংলাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিকের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করায় আমি আনন্দিত।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সদ্য স্বাধীন দেশের তৃনমূল পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা পৌছানোর লক্ষ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক ধারনার প্রবর্তন করেন। তিনি মাত্র সাড়ে তিন বছরেই দেশে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে তদানীন্তন মহকুমা ও থানা পর্যায়ে স্বাস্থ্য অবকাঠামো গড়ে তুলেছিলেন। জাতির পিতার স্বপ্নকে আরো একধাপ এগিয়ে নেওয়ার প্রয়াসে আমাদের সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদের শুরুতেই আমরা প্রতি ৬ হাজার জনগোষ্ঠীর জন্য একটি করে দেশব্যাপী মোট ১৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। সেই আলোকে ২০০০ সালের ২৬ এপ্রিল জাতির পিতার জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নে আমি দেশের সর্ব প্রথম ‘গিমাডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিক’ প্রতিষ্ঠা করে এর শুভ সূচনা করি এবং ২০০১ সালের মধ্যেই আমরা ১০ হাজার ৭ শত ২৩টি অবকাঠামো স্থাপনপূর্বক প্রায় ৮ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম চালু করতে সমর্থ হই।
জাতি হিসেবে আমাদের দুর্ভাগ্য, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ২০০৯ সালে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে আমরা আবার কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম শুরু করি। নতুন নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে বর্তমানে মোট ১৩ হাজার ৮ শত ১২ টি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার ২০২২ সালের মধ্যে বাকি প্রায় ৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
কমিউনিটি ক্লিনিক সরকার ও জনগণের সম্মিলিত অংশীদারিত্বমূলক একটি কার্যক্রম। এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা এবং টেকসই করার লক্ষ্যে আমাদের সরকার গত ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর ‘কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন’ পাশ করেছে। এসকল ক্লিনিক থেকে সারাদেশে প্রান্তিক জনপদ স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা ও পুষ্টি বিষয়ে প্রাথমিক সেবা সমূহ পাচ্ছে। শুধু তাই নয়, এসকল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে ৩০ ধরণের ঔষধ ও স্বাস্থ্য-সামগ্রী প্রদান করা হচ্ছে। চলমান অর্থ বছরে ঔষধ ও স্বাস্থ্য-সামগ্রীতে বাৎসরিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করে ২০১ কোটি থেকে ২৪১ কোটি টাকায় উন্নীত করেছি। পূর্বে ৫ শতাংশ জমিতে কমিউনিটি ক্লিনিকের অবকাঠামো নির্মাণ করা হতো, দিন দিন সেবাগ্রহীতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বর্তমানে ৫ শতাংশের পরিবর্তে ৮ শতাংশ জমিতে চার-পক্ষ বিশিষ্ট নতুন ডিজাইনের কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রান্তিক জনগণের স্বাস্থ্য-তথ্য সংগ্রহের জন্য ১০৬ টি উপজেলার প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিক সংলগ্ন এলাকার জন্য ৫/৭ জন করে মোট ২৪ হাজার মাল্টিপারপাস হেলথ ভলান্টিয়ার (এমএইচভি) নির্বাচন করা হয়েছে। আমাদের সরকারের এসব পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে স্বাস্থ্য খাতে ব্যপক সাফল্য পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা দেশের সীমানা পেরিয়ে বহির্বিশ্ব্ওে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতে আমাদের সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ আমরা এমডিজি পুরস্কার, সাউথ-সাউথ পুরস্কার ও গ্যাভী পুরস্কার, ভ্যাক্সিন হিরো পুরস্কারের মত অনেক সম্মানজনক আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছি।

কমিউনিটি ক্লিনিক জনগণের সম্পদ। আমি কমিউনিটি ক্লিনিকের টেকসই অগ্রযাত্রায় সকলের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহবান জানাচ্ছি। এবছর বিশ্বব্যাপী কোভিট-১৯ মহামারীর কারণে জনসমাগমের মাধ্যমে অনুষ্ঠান আয়োজন সম্ভব না হলেও বিভিন্ন প্রচার প্রচারণা মাধ্যমে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে হবে। মানুষকে সচেতন করতে হবে যাতে করে বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে পারি এবং ভবিষ্যৎ বিপদ মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুতি নিতে পারি। এ ব্যাপারে কমিউনিটি ক্লিনিক অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।
আমি কমিউনিটি ক্লিনিকের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গৃহীত সকল কার্যক্রমের সাফল্য প্রত্যাশা করছি।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু,
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে