কমরেড অমল সেনের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ওয়ার্কার্স পার্টির স্মরসভা

শনিবার, জানুয়ারি ১৮, ২০২০,৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ
0
83

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

গত ১৭ জানুয়ারি ২০২০ উপমহাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা পুরুষ, ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের নেতা, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কমরেড অমল সেনের ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরসভা অনুষ্ঠিত হয়।

কমরেড অমল সেন ব্রিটিশ ভারতে ১৯১৪ সালে বর্তমানের নড়াইল জেলার আফরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নবম শ্রেণীর ছাত্র থাকাবস্থায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামে যুক্ত হয়ে ‘অনুশীলন’ সমিতির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ১৯৩৩ সনে খুলনার বিএল কলেজে রসায়ন শাস্ত্রে পড়া অবস্থায় অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত হন এবং ঐ বছরই এই অঞ্চলের জমিদারদের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। নিজের পিতার জমিদারির বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলন তাঁকে আরো পরিচিত করে তোলে। ধারাবাহিকভাবেই ঐ অঞ্চলে আন্দোলন চলতে থাকে।

১৯৩৫ সনে তিনি অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। ১৯৪৬ এর ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের কিংবদন্তী পুরুষ পরিচিতি লাভ করেন সকলের ‘বাবুদা’ হিসেবে। ১৯৪৮ সনে যশোর পার্টির সম্পাদক নিযুক্ত হন। সদ্য ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর পাকিস্তানী মুসলিম লীগ সরকারের রোষানলে পড়েন এবং ১৯৫৬ সন পর্যন্ত কারারুদ্ধ থাকেন। দুই বছরের জন্য বাইরে থাকলেও আবারো ১৯৫৮ সনে গ্রেফতার হয়ে ১৯৬৯ সন পর্যন্ত জেলে আটক থাকেন তিনি। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় মুক্তি লাভ করলেও আবারও তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৭১ এর মার্চ মাসে জনগণ জেল ভেঙ্গে তাঁকে মুক্ত করেন।

আজীবন বিপ্লবী, অকৃতদার, নিঃস্বার্থ বিপ্লবী কমরেড অমল সেন ১৯৭১ এ জেলমুক্ত হয়ে ভারতে চলে যান এবং তখন বিভ্রান্ত বাম আন্দোলনের কর্মীদের সংগঠিত করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করতে ‘খোলা চিঠি’ দিয়ে আহŸান জানান। ভারতে বসেই তিনি এদেশের বিপ্লবীদের ঐক্যবদ্ধ করার অব্যাহত প্রচেষ্টা চালান এবং ‘কমিউনিস্ট বিপ্লবীদের সমন্বয় কমিটি’ গড়ে তোলেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সনে পিকিং-মস্কো ধারার বিপরীতে লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলেন এবং তার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। কমরেড অমল সেনের হাতে গড়া লেনিনবাদী কমিউনিস্ট পার্টি পরবর্তীতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি নাম ধারণ করে।

তিনি ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। কমরেড অমল সেন ২০০৩ সালে ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রাজনৈতিক জীবনে কমরেড অমল সেন তাঁর সময়ে বাম-ডান বিচ্যুতির বিরুদ্ধে কমিউনিস্ট কর্মীদের সমাজ বিপ্লবের দিশা দেখিয়েছেন তাঁর ‘জনগণের বিকল্প শক্তি’ নামক চিন্তাসূত্র দিয়ে। সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের বিপর্যয়ের পূর্বেই ১৯৭৭ সনে তিনি তাঁর মূল্যবান চিন্তা নিয়ে প্রবন্ধ লেখেন ‘বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সমস্যা প্রসঙ্গে’। পরবর্তীতে সেই চিন্তার অনেক যথার্থতাও খুঁজে পাওয়া যায়। কমিউনিস্ট পার্টি এবং জীবনবোধের অনুশীলনে ‘কমিউনিস্ট জীবন ও আচরণ রীতি প্রসঙ্গে’ বইটি এদেশের কমিউনিস্টদের জন্য একটি অবশ্যপাঠ্য পুস্তক। ‘নড়াইল তেভাগা আন্দোলনের সমীক্ষা’ নামক প্রবন্ধেও তেভাগা আন্দোলনের মর্মবস্তু তুলে ধরেছেন।

কমরেড অমল সেন এর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রথম দিনে আজ ১৬ জানুয়ারি ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তাঁর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যদিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেনন, পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড আনিসুর রহমান মল্লিক, কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক, কমরেড ড. সুশান্ত দাস, কমরেড হাজেরা সুলতানা, কমরেড কামরূল আহসান, কমরেড আলী আহমেদ এনামুল হক এমরান, কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড তপন দত্ত, কমরেড করম আলী, কমরেড আমিরুল হক আমিন, কমরেড এ্যাড. আকসিম এম চৌধুরী, কমরেড জাকির হোসেন রাজু, কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন, কমরেড সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, কমরেড আবুল হোসাইন, কমরেড শাহানা ফেরদৌসী লাকী, কমরেড মুর্শিদা আখতার নাহার, কমরেড মাহমুদুল হক সেনা, কমরেড মুতাসিম বিল্লাহ সানী, কমরেড আজাহার আলী প্রমুখ।

এরপর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ১৪ দল, ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্য লুৎফুন সেনা খান বিউটি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড দিলীপ বড়–য়া, বাংলাদেশ জাসদ-এর সভাপতি শরিফ নুরুল আম্বিয়া, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, জাসদের সহসভাপতি শফিউদ্দিন মোল্লা, গণফোমের নির্বাহী সভাপতি এ্যাড. সুব্রত চৌধুরী, সভাপতিমÐলীর সদস্য এ কে এম জগলুল হায়দার আফরিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের বজলুর রশিদ ফিরোজ, রাজেকুজ্জামান রতন, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদৎ হোসেন, ঐক্য ন্যাপের সভাপতিমÐলীর সদস্য এ্যাড. এস এম এ সবুর ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ ভুইয়া, গণআজাদী লীগের সভাপতি এস কে শিকদার, ন্যাপের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির অনন্ত ধামায়, নিপুন ত্রিপুরা, বাংলাদেশ যুব মৈত্রী, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন, বাংলাদেশ নারী মুক্তি সংসদ, জাতীয় কৃষক সমিতি, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশন, ওয়ার্কার্স পার্টি পল্লবী থানা, সাপ্তাহিক নতুন কথা, পার্টি স্কুল, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারি ফেডারেশন, গণতান্ত্রিক গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়ন, সরকারি কর্মচারি সমন্বয় পরিষদ, স্কপ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট, জাতীয় শ্রমিক জোট বাংলাদেশ, জাতীয় হকার্স ইউনিয়ন, বিভিন্ন শ্রেণী গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে