ওএমএস চালের মূল্য ভোক্ত পর্যায়ে ১০ টাকা পুনঃনির্ধারণ

রবিবার, এপ্রিল ৫, ২০২০,২:৪৭ অপরাহ্ণ
0
9

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবেলায় খাদ্য মন্ত্রণালয় পরিচালিত ওএমএস খাতে চালের এক্স গুদাম মূল্য ৮.০০ টাকা এবং ভোক্ত পর্যায়ে ১০.০০ টাকা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

          খাদ্য মন্ত্রণালয় হতে খাদ্য অধিদপ্তরে প্রেরিত এক নির্দেশনায় নিন্মোক্ত নির্দেশনা অনুসরণের বিষয়  প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে :

          ১। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধকল্পে উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট কর্মহীন মানুষের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বিশেষ ওএমএস কর্মসূচি চলমান ওএমএস (আটা) কর্মসূচির অতিরিক্ত হিসেবে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত চলমান থাকবে;

          ২। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিকালীন জনসাধারণ গৃহে অবস্থান করায় সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। দিনমজুর, রিক্সা চালক, ভ্যান চালক, পরিবহণ শ্রমিক, ফেরিওয়ালা, চায়ের দোকানদার, ভিক্ষুক, ভবঘুরে, তৃতীয়লিঙ্গ (হিজরা) সম্প্রদায়সহ অন্যান্য সকল কর্মহীন মানুষকে এর আওতায় এনে এই বিশেষ ওএমএস কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে;

          ৩। কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভোক্তার বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত মাস্টাররোল (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মোবাইল নম্বরসহ) সংরক্ষণ করতে হবে;

          ৪। একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তিকে ভোক্তা হিসেবে নির্বাচন করা যাবে না। এছাড়া, উক্ত পরিবারের কেউ যদি খাদ্য বান্ধব অথবা ভিজিডি কর্মসূচির উপকারভোগী হয়ে থাকেন তাহলে তিনি এ কর্মসূচির আওতায় ভোক্তা হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হতে পারবেন না;

          ৫। জেলা ও বিভাগীয় শহরের কেন্দ্র প্রতি ২ (দুই) মে.টন এবং ঢাকা মহানগরের কেন্দ্র প্রতি ৩ (তিন) মে.টন করে চাল দৈনিক বিক্রি করা যাবে;

          ৬। জেলা ও বিভাগীয়/ঢাকা মহানগরীর ওএমএস বরাদ্দের পরিমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ওএমএস কমিটির (জেলা ও বিভাগীয়/ঢাকা মহানগরীর ওএমএস কমিটি) মাধ্যমে বিদ্যমান ওএমএস কেন্দ্রের সংখ্যা ঠিক রেখে বিক্রয়কেন্দ্রের স্থান পূনঃনির্ধারণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী, শ্রমজীবীদের বসবাস কেন্দ্রের নিকটস্থ বস্তি এলাকায় অথবা পর্যাপ্ত খালি জায়গা আছে এমন স্থানকে অস্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্বাচন করতে হবে;

          ৭। ভোক্তা প্রতি ৫ (পাঁচ) কেজি চাল বিক্রয় করতে হবে এবং একজন ভোক্তা জাতীয় পরিচয় পত্র প্রদর্শণ করে সপ্তাহে একবার মাত্র ৫(পাঁচ) কেজি চাল ক্রয় করতে পারবেন;

          ৮। সপ্তাহে ৩(তিন) দিন রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার সকাল ১০:০০ টা হতে দুপুর ৩:০০ টা পর্যন্ত বিক্রয় কার্যক্রম চালানো হবে;

          ৯। স্থানীয় প্রশাসন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, সিটি কর্পোরশন, পৌরসভা এর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা প্রতিনিধির উপস্থিতি /তদারকিতে বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে;

          ১০। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি পরিচালনপূর্বক বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে;

          ১১। ওএমএস নীতিমালায় বর্ণিত জেলা/বিভাগীয়/ঢাকা মহানগরীর কমিটি সার্বিক বিষয়টি মনিটরিং করবে;

          ১২। ডিলারগণ দৈনিক বিক্রয় প্রতিবেদন তদারকি কর্মকর্তার প্রতিস্বাক্ষর গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট ওএমএস কমিটির সভাপতির নিকট প্রেরণ করবেন।

          উল্লেখ্য, ঢাকা মহানগরে মোট ৭৩ বস্তি আছে। এই বস্তি গুলোতে ৩৯,১৮০টি পরিবার আছে।  এখানে মোট জনসংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ। ঢাকা জেলা প্রশাসন থেকে জানা যায় এরা কেউ সরকারের খাদ্য সহয়তা পায়নি। ঢাকা মহানগরে ওএমএস ডিলার কেন্দ্রের সংখ্যা ১২০ টি। এই ডিলারদের তালিকা হতে ২৪ জন ডিলার বাছাই করে সপ্তাহে ৩ দিন পর্যায়ক্রমে ৭৩ বস্তি বা ৩৯,১৮০টি পরিবারকে বিশেষ ওএমএস ৫ কেজি চাল বিক্রয় করা হবে। এই সকল কেন্দ্রে কোন আটা বিক্রয় করা হবে না। 

          এমতাবস্থায়, পরীক্ষামূলকভাবে আগামী ৫/৪/২০২০ তারিখ রবিবার এই বিশেষ ওএমএস কার্যক্রম ঢাকা মহানগরের ২ টি কেন্দ্র দিয়ে শুরু হবে। এর মধ্যে একটি হলো ৭ নং ওয়ার্ড, শিয়ালবাড়ী, রুপনগর ঝিলপাড় বস্তি, মিরপুর অন্যটি সাততলা বস্তি, মহাখালী, ঢাকা।

          এ কার্যক্রম জেলা প্রশাসন, ঢাকা, স্থানীয় সিটি কাউন্সিলর, আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয়/ খাদ্য অধিদপ্তরের তত্ত্ববধানে ঢাকা রেশনিং ওএমএস ডিলারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে। এ কার্যক্রম সকাল ১০ টা হতে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত চলবে।

          পাশাপাশি আজ ৪/৪/২০২০ তারিখ শনিবার হতে যথারীতি ওএমএস এ আটা ১৮ টাকা কেজি দরে প্রতি কেন্দ্র হতে ১ হাজার কেজি বিক্রয় করা হবে। কেন্দ্র সংখ্যা হবে ৯৬ টি এবং সপ্তাহে ৬ দিন সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত চলবে।

          নির্দেশনায় আরও বলা হয় বর্তমানে দেশের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে সরকারের স্বাস্হ্য বিধি মেনে এ কার্যক্রমে কোন উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান হবে না।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে