এভাবে কলম ও প্রতিবাদী কণ্ঠ দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়

বুধবার, মে ১৯, ২০২১,১২:১৯ অপরাহ্ণ
0
26

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

এম এ আক্কাছ নূরী : মনে হয়, করোনার এ লকডাউন সাধারণ জনগণের জন্য প্রযোজ্য ও বাধ্যতামূলক। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশরা কি স্বাস্থ্যবিধি মানার বাইরে? মানুষের মধ্যে এ প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। দায়িত্বরত নারী সাংবাদিককে আদালতে তুলতে এত পুলিশ কেন? নাম করা সন্ত্রাসী, ক্যাডার এবং কিলারকেও আদালতে নিতে এত পুলিশ দেখা যায় না। তাহলে কি এ নারী সাংবাদিক তাদের চেয়েও আতঙ্কের? নাকি আতঙ্ক করে তোলা হচ্ছে? তিনি রাষ্ট্রের অর্থ আত্মসাতের তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কি, অপরাধীদের চেয়েও বেশী অপরাধী হয়ে গেলেন?

প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে নিজেদের রাষ্ট্রের মালিক মনে করেন এবং জনগণকে রাষ্ট্রের গোলাম মনে করে থাকেন। তারা বৈধ পন্থায় উচ্চ স্কেলের বেতনও নেবেন আবার গোপনে একা বা সিন্ডিকেট করে রাষ্ট্রিয় আমানত, জনগণের সম্পদ লুটপাট করতে থাকবেন। বিষয়টি দায়িত্বশীল সাংবাদিকরা যদি প্রকাশ করতে যায়, তখন তাদেরকে উল্টো দায়ি করার জন্য নানা ধরণের ভয়ঙ্কর পন্থা অবলম্বন করতে দেখা যায়। প্রথম আলোর দায়িত্বশীল নারী সাংবাদিকের বিষয়টি তাই নয় কি?……

বর্তমানে ঘর থেকে সংসদ ভবন, সবখানেই মিথ্যা, চোগলখুরী, অন্যায় ও জোর দখলের মহোৎসব। কেউ যেন সত্য প্রকাশ করতে না পারে, তারজন্য দেশে এখন কঠোর আইন হয়েছে। সাংবাদিক, প্রতিবাদী ও বিবেকবান মানুষরা আজ আইনের শিকলে বন্দি। সারাক্ষণ শুধু সুনাম কর। তাদের নাচ-গানের কথাগুলো তুলে ধর। তার জন্যই গণমাধ্যমের সব স্বাধীনতা। হক্ব কথা বলতে পারবে না। হক্ব বললেই হাতকড়া পরতে হবে। গুণ্ডা, মাস্তান, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের চেয়েও বড় অপরাধী যারা সত্য কথা তুলে ধরে। সত্য প্রকাশ করে। তাই তো সত্যবাদীকে দমিয়ে রাখতে এত পুলিশ। যাতে এ মহড়া দেখে কেউ সত্য বলার ও লিখার সাহস না করে। কিন্তু আল্লাহপাক কুরআন মাজীদে ইরশাদ করেছেন, সত্য বলার জন্য আর মিথ্যার বিরোধীতা করতে। আমি-আমরা কেউ এ দুনিয়ায় থাকব না। মৃত্যু যে কোন সময় আমাদের নিয়ে যাবে। আল্লাহর কাছে সবকিছুর জওয়াব দিতে হবে। তাই রাষ্ট্রিয় দায়িত্বশীল মহল থেকে প্রতিবাদীদের যত ভয়-ভীতি দেখানো হোক নির্ভীক দায়িত্বশীলরা দায়িত্বপালন করেই যাবেন।

দায়িত্বশীল নারী সাংবাদিককে ভয়ঙ্কর আসামীর মত অসংখ্য পুলিশ বেষ্টনীতে আদালতে তোলার দৃশ্য দেখে, সম্ভবত অপরাধী আমলারা উৎসাহবোধ করছে। কিন্তু সাধারণ জনগণ ঘৃণা প্রকাশ করছেন। নির্যাতিতের অনেককে বলতে শুনি বাংলাদেশ এখন পুলিশী রাষ্ট্র! অবস্থা পরিস্থিতিতে সেটা সত্যের দ্বারপ্রান্তে। এক সময় পুলিশ ছিল জনগণের বন্ধু। সাংবাদিকদের সহযোগী। এখন তাদের আচার-আচরণে বাংলাদেশের নাগরিকরা উল্টোটাই দেখছে। আফসোস! যাদের টেক্সে প্রজতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা চলে, তাদের অনেকে অন্যায়ের প্রতিবাদকারী জনগণের পক্ষ না নিয়ে স্বস্ব অবস্থান থেকে অপরাধীদের পক্ষ অবলম্বন দৃশ্যমান।

এভাবে আর কতজনের কলম ও প্রতিবাদী কণ্ঠ চেপে ধরা যাবে? কয়জনকে মামলায় ফাঁসানো যাবে? কয়জনকে হত্যা করা সম্ভব হবে? কয়জনের হত্যার বিচার কতদূর বিলম্ব করা যাবে? আসলে সব কিছুর পরিণতি শুরু হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। এ মাহেদ্রক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছেন নির্যাতিত, নিপীড়িত, অধিকার বঞ্চিতরা এবং স্বজনহারানো জনগণ নীরবে-নিবৃতে এর প্রহর গুনছে। আসলে জুলুম-নির্যাতন যখন সম্মিলিতভাবে শুরু হয়, তখন সুদিন বেশী দূর নয়। বর্তমানে নির্যাতনকারী, অবৈধ সম্পদ আহরনকারী, অন্যায়কারী, অধিকারহরনকারী ছাড়া জাতি-ধর্ম, দল-মত নির্বিশেষে ভেতরে ভেতরে জনগণ অঘোষিত ঐক্যবদ্ধ। জনমত যাচাইয়ে এটাই প্রতিয়মান।

লেখক : যুগ্ম সম্পাদক, দৈনিক বর্তমান কথা।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে