এনবিআর অনৈতিক সুবিধার প্রমাণ পেয়েছে মেঘনা ও সিটি গ্রুপের

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১, ২০১৯,৫:৩০ পূর্বাহ্ণ
0
57

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

প্রণোদনা হিসেবে বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে কর অবকাশ সুবিধা দিয়ে আসছে সরকার। দুটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান মেঘনা ও সিটি গ্রুপ নিজস্ব অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে এ সুবিধা নিয়ে উৎপাদন করছে ভোগ্য পণ্য। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে নিজস্ব অন্যান্য শিল্পেও এই সুবিধা নিচ্ছে।  জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ ব্যাপারে প্রমাণও পেয়েছে।

রাজস্ব আহরণকারী সংস্থাটি মনে করছে বিষয়টিকে অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্থাপিত শিল্পে সরকারের দেওয়া প্রণোদনার অপব্যবহার ।

এনবিআর বলছে, অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের সনদ নিয়ে প্রতিষ্ঠান দুটি এভাবে নষ্ট করছে বাজার ভারসাম্যও ।তাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে স্থাপিত ভোগ্য পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে আর কর অবকাশ সুবিধা না দেওয়ার প্রস্তাব করেছে তারা। জানা গেছে, এনবিআর এ লক্ষ্যে আইন পরিবর্তনে বেজাকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে ।

অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভোগ্য পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের শুল্ক, কর সুবিধার অপব্যবহার নিয়ে গত ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় এনবিআরে জরুরি সভা । এনবিআরের পক্ষ থেকে সভায় বলা হয়, আইন অনুযায়ী অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প গড়ে তোলা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অগ্রিম আয়কর (এআইটি), আগাম কর (এটি) ও আয়কর অব্যাহতি পায়। আর এ সুবিধা নিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলভুক্ত দুটি প্রতিষ্ঠান ভোজ্য তেল, চিনি, আটা, ময়দা স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করছে কম দামে । অথচ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে ভোগ্য পণ্য উৎপাদনকারী অন্য কম্পানিগুলোকে করতে হয় সব ধরনের কর পরিশোধ । তাই তাদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য বেশি পড়ে। এতে সৃষ্টি হচ্ছে বৈষম্য । পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে প্রতিযোগিতামূলক বাজারের ভারসাম্য ।

এ প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠান ভোগ্য পণ্যের বাজারের  নষ্ট করেছে ভারসাম্য। এতে অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তৈরি হচ্ছে বৈষম্য । এ বৈষম্য বন্ধ ও ভোগ্য পণ্যের বাজার ভারসাম্য রাখার জন্য প্রয়োজনীয় আইন পরিবর্তন ও সিদ্ধান্ত হয়েছে সংশোধন করার ।

সিটি ও মেঘনা গ্রুপ অর্থনৈতিক অঞ্চলে কারখানা স্থাপন করে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।  সিটি ইকোনমিক জোন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে প্রায় ১০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে। এই জোনে সিটি অটো রাইস ও ডাল মিলস, সিটি এডিবল অয়েল, রূপসী সুগার মিল, রূপসী ফ্লাওয়ার মিল, রূপসী ফিড মিল ও সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজ রয়েছে। এর মধ্যে সিটি অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস ও সিটি এডিবল অয়েল ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। একই বছরের ডিসেম্বর থেকে সিটি সিড ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজও বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে।  গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের সনদ নিয়ে এর অপব্যবহারের বিষয়ে জানতে সিটি গ্রুপের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে জানেন না ।

মেঘনা গ্রুপের দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল । একটি মেঘনা ইকোনমিক জোন, অন্যটি মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোন। নারায়ণগঞ্জের সোনাগাঁয় ২৪৫ একর জমিতে প্রতিষ্ঠিত মেঘনা ইকোনমিক জোনে মেঘনা এডিবল অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড ও সোনারগাঁও ফ্লাওয়ার অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেড গত বছরের ৩০ মে উদ্বোধন করা হয়। জানা গেছে, মেঘনা এডিবল অয়েলসে বিনিয়োগের পরিমান তিন কোটি ৫৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এ কারখানায় পরিশোধিত সয়াবিন তেল ও পাম অয়েল উৎপাদন করা হয়। এখানে উৎপাদিত ভোজ্য তেলের ২০ শতাংশ ভারত ও নেপালে রপ্তানি হয়।

সোনারগাঁও ফ্লাওয়ার অ্যান্ড ডাল মিলসে দুই কোটি ৯৫ লাখ ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। এ কারখানায় উৎপাদন করা হয় আটা, ময়দা ও ডাল। আর সোনারগাঁও সিডস ক্রাশিং মিলস লিমিটেডে বিনিয়োগের পরিমাণ এক কোটি ৬২ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এ কারখানায় উৎপাদিত ভোগ্য পণ্যের ৩০ শতাংশ ভারত ও নেপালে রপ্তানি করা হয়।

গণমাধ্যমকে মেঘনা গ্রুপের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সুমন চন্দ্র ভৌমিক জানান, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা সভা করেছেন বেজার সঙ্গে । তাঁরা মনে করেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য যে প্রণোদনা রয়েছে, সেগুলো তুলে নেওয়া হলে ইকোনমিক জোন বাস্তবায়নের ওপর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।  অর্থনৈতিক অঞ্চলবিমুখ হবেন দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। তাঁরা অন্যত্র—যেখানে বিনিয়োগ রিটার্ন ভালো সেখানে চলে যাবেন।

সুবিধার অপব্যবহার প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে সুমন চন্দ্র বলেন, ‘এসব প্রশ্ন একেবারেই অমূলক ও ভ্রান্ত। আমাদের যখন এনবিআর থেকে ডাকা হয়েছে আমরা বলেছি, অভিযোগটি যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আমরা  ছেড়ে দেব ব্যবসা। এ বিষয়ে আমরা  নিশ্চিত শতভাগ। কোনো অনিয়মের মধ্যে আমরা নেই। আমাদের বেলায় পাওয়া যায়নি অভিযোগের কোনো প্রমাণ । প্রতিহিংসাবশত কেউ এ ধরনের অভিযোগ উত্থাপন করে থাকতে পারে।’

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে