একটি প্রশ্নের উত্তরে

বুধবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০,৯:২৩ পূর্বাহ্ণ
0
24

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

একটি বিষয়ে আমি সব সময় নিজের মনেই একটা প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে আসছি, সন্তোষজনক উত্তরের সন্ধান কখনো পাইনি এবং বাকী জীবনে পাব বলে মনে হয়না। আমি মনে করি, আমার ধর্মবিশ্বাস এক শাশ্বত সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং এক শাশ্বত সুন্দরের দিকে নির্দেশিত। কিন্তু শাশ্বত সত্যকে ধারন এবং অনুভব করার জন্য যে ধ্রুব চেতনা একান্ত প্রয়োজন তা আমার নেই। আমার চেতনা আপেক্ষিক।সীমাবদ্ধ গন্ডির মধ্যে তার বিচরণ। কিন্তু আমি যে স্রষ্টাকে বিশ্বাস করি তিনি ধ্রুব, তার মহান বৈশিষ্টে আপেক্ষিকতাতো নয়ই, কোন সীমাবদ্ধতাই নেই।সে জন্যই আমার আপেক্ষিকতা অথবা সীমাবদ্ধতার গন্ডি অতিক্রম করে এক ধ্রুব চেতনা অর্জন করার প্রক্রিয়া হচ্ছে আমার ধর্মাচার, আমার ইবাদত, আমার সাধনা। এবং সেই চেতনা দিয়ে স্রষ্টার ধ্রুব সত্ত্বাকে অনুভব করাই হচ্ছে আমার ধর্মাচারের ,আমার ইবাদতের উদ্দেশ্য। এই অনুভব ব্যতিত যান্ত্রিক উপাসনা স্রষ্টার কাছে পৌঁছেনা কখনো। কিন্তু যখন দেখি ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিলসমূহে মহান স্রষ্টার গুণকীর্তন যতটুকু হয়, তার চেয়ে অনেকগুন বেশী হয় আরেকজন কি করল তা নিয়ে আক্রমনাত্মক আলোচনা, যখন দেখি আত্ম-সংশোধন বাদ দিয়ে অন্য বিশ্বাসের মানুষকে আঘাত করতে, এমনকি হত্যা করতে আমরা অনেক বেশী আগ্রহী, তখন আমি এই ধর্মাচারের অর্থ খুঁজে পাইনা।

আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে আমি জানি, মহান স্রষ্টা যখন পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টির কথা ব্যক্ত করেছিলেন তখন তিনি মানুষকে তার প্রতিনিধির মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছিলেন। সেসময় তার চিরআজ্ঞাবহ ফেরেশতারা তার এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছিলেন এবং বলেছিলেন, মানুষ পৃথিবীতে গিয়ে ঝগড়া ফ্যাসাদ রক্তপাত করবে। সর্বজ্ঞানী মহান প্রভু একটিমাত্র বাক্য দিয়ে তাদের সকল অভিযোগের উত্তর দিয়েছিলেন। তা হল, “নিশ্চয়ই আমি তা জানি যা তোমরা জাননা।” (সুরা-আল বাকারাহ)। এই একটি বাক্য মহান স্রষ্টার মহারহস্যময়তার কথা সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে এবং তার সৃষ্টি পরিক্রমার রহস্যময়তাকে গভীরভাবে অনুধাবন করার দিকে আমাদের উদ্বুদ্ধ করে। এখানে আমার ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জ্ঞান, আমার নগণ্যতম অনুধাবন এবং আমার আপেক্ষিক চেতনার উপর নির্ভর করে আমি অন্যকে শুধু সংশোধন নয়, সংহার করতে উদ্যত হই। অথচ আত্মসংশোধন হয়ে থাকে অবহেলিত,পরিত্যক্ত।

আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে আমি বুঝি, মহাসত্য তার অগণিত মাত্রা নিয়ে ত্রিমাত্রিক (three dimensional) উপলব্ধির মধ্যে অবস্থান করতে পারেনা। মানুষের উপলব্ধি তথা বোধকেও বহুমাত্রায়, অগনিত মাত্রায় প্রসারিত করতে হবে। তাহলেই তার চিন্তাচেতনা সময়ের নিগড় থেকে বেরিয়ে চিরন্তনের রূপময়তাকে ধারন করতে পারবে। ধর্ম অন্তরের ফুলবাগানে আপন বর্নে প্রস্ফুটিত হবে।

জড়চেতনায় এ অলৌকিক সত্ত্বাকে ধারন করা অসম্ভব। আমার স্বপ্নের চিশতীনগর আজ আত্মিক ও অলৌকিক জ্যোতির্ময়তায় স্নাত হয়ে সমাজের মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছে এক অচিন্ত্যনীয় লোকে। এ যাত্রা সফল হোক, সুন্দর হোক। চিত্ত থেকে চিত্তে এ অভিযাত্রা প্রসারিত হোক। আমিন ।

লেখক : প্রকৌশলী সৈয়দ গোলাম মুরসালিন
বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে