‘ঈদ কার্ড’এখন শুধুই অতীত

সোমবার, মে ১০, ২০২১,৮:২৭ অপরাহ্ণ
0
44

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

আজহারুল ইসলাম জনি (নিজস্ব প্রতিবেদক) : একটা সময় ছিলো, ঈদ এলেই ছোট-বড় সবাই ঈদের শুভেচ্ছা জানাতো ঈদ কার্ড দিয়ে। শহর-গ্রাম সবখানেই ছিলো ঈদ কার্ডের প্রচলন। তবে প্রযুক্তির দ্রুত প্রসারে হারিয়ে যেতে বসেছে ঈদ কার্ড দিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা জানানো।

একটা সময় ছিল,যখন ঈদ এলে পাড়া-মহল্লার অলিতে-গলিতে ছোট ছোট দোকানে ঈদ কার্ড সাজিয়ে নিয়ে বসতো এলাকার কিশোর এবং তরুণরা। কার্ডগুলোতে লেখা থাকতো ঈদের বিভিন্ন শুভেচ্ছা, কবিতা, ছড়া। মজার মজার সব ছবির সঙ্গে লেখা থাকতো ঈদের শুভেচ্ছাবার্তা।

আবার নানা রকম ফুল, পাখি, পুতুল, ছন্দ, গানের কলি আর ভালোবাসার বিভিন্ন উক্তি এবং প্রতীকযুক্ত ‘ঈদ মোবারক’লেখা কার্ড দিয়েই শুরু হতো ঈদের শুভেচ্ছা জানানো। আর ঈদ কার্ডের দোকান গুলোর সাউন্ড বক্সে বাজতো প্রিয় শিল্পীদের প্রিয় গান গুলো।
দোকান ছাড়াও পাড়া মহল্লার কিশোর এবং যুবকরা টেবিল নিয়ে বসে ঈদ কার্ড বিক্রি করত পাড়ার ভিবিন্ন অলিতে গলিতে। যুগের বিবর্তনে সেই ঐতিহ্য এখন প্রায় হারিয়েই গেছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এসেছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন। বদলেছে সময়।

রঙিন খামে থাকা সেই কার্ড পেয়ে ভেতরে যে অনুভূতি তৈরি হতো এখন তা অনেকটাই সাদা কালো। এখন কেবল অফিস আদালতে করপোরেট শুভেচ্ছা জানাতে ঈদ কার্ডের কিছুটা ব্যবহার দেখা যায়। এক যুগ আগেও ঈদ কার্ড ছাড়া বাঙালির ঈদ আনন্দ কল্পনা করা যেত না। ঈদ আসলেই কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীদের ব্যস্ততা ছিল ঈদ কার্ড সংগ্রহে। ঈদে পছন্দের জামা-কাপড়ের পাশাপাশি তালিকায় থাকতো ঈদ কার্ড। প্রিয়জনকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর জনপ্রিয় মাধ্যম ছিলো এই ঈদ কার্ড।

আবার ঈদ কার্ডের পাশাপাশি ছোটদের জন্য থাকতো, ভিবিন্ন কার্টুন চরিত্রের মিনি স্টিকার। টম এন্ড জেরী, মিকি মউস, পাপাই, মিনা রাজুসহ জনপ্রিয় অনেক কার্টুন চরিত্র। মিনি স্টিকার গুলো শিশুদের ঈদের আনন্দ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিত। একসময় শহরের পাড়া মহল্লা থেকে শুরু করে গ্রামেও পাওয়া যেতো ঈদ কার্ড। প্রিয়জনদের কাছ থেকে ঈদ কার্ড পাওয়ার প্রতীক্ষায় থাকতেন অনেকেই। প্রথম রমজান থেকেই শুরু হতো ঈদ কার্ড সংগ্রহ। দোকানে দোকানে থাকতো কার্ড কেনার ধুম। ঈদ কার্ডে বর্ণিল ডিজাইন আর বাহারি রঙের আঁকা গম্বুজ, মিনারের উপর চাঁদ-তারা, লাল গোলাপ, প্রিয় নায়ক-নায়িকাদের ছবির উপর লেখা ঈদ মোবারক দ্বিগুণ করে দিত ঈদ আনন্দ।

কিন্ত সময়ের ব্যবধানে এখন হারিয়েছে ঈদ কার্ড। প্রযুক্তি যেমন মানুষের জীবন ব্যবস্থাকে সহজ করে দিয়েছে, তেমনি কেড়ে নিয়েছে অনেক কিছু। তাই এখন আর ইচ্ছে হয়ে উঠে না হাতে একটু লেখে প্রিয়জনকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর। তারপরেও কোনো এক প্রজন্মের কাছে ঈদ কার্ড রয়ে গেছে সজীব স্মৃতি হয়ে।

শুভেচ্ছা আদান–প্রদান এখন ডিজিটাল মাধ্যমের দখলে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এখন মানুষ ফেসবুক,টুইটার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, ই-মেইলসহ ভিবিন্ন অনলাইন মাধ্যমে পৌঁছে দিচ্ছে ঈদের শুভেচ্ছা।

এছাড়া সেলফোন থেকে এসএমএস বা এমএমএস দিয়েও জানানো হচ্ছে ঈদের শুভেচ্ছা। তাই হয়তো ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন দোকানে, অলিতে গলিতে ছোট টং দোকান বানিয়ে বসে বসে কার্ড বিক্রি, পাড়ার অলিতে গলিতে টেবিল নিয়ে বসে কার্ড বিক্রির সেই চিত্র এখন আর দেখা যায় না। নতুন প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানবে না ঈদ কার্ড কি !

একটা সময় ছিল, যখন ঈদ আসলেই কাছের মানুষ বা বন্ধুকে শুভেচ্ছা জানাতে ব্যবহার করা হতো ঈদ কার্ড। সময়ের বিবর্তনে শুভেচ্ছা বিনিময়েও এসেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘ঈদ কার্ড’এখন শুধুই অতীত।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে