ইবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্র হেনস্থার অভিযোগ

রবিবার, অক্টোবর ১১, ২০২০,১১:১৫ পূর্বাহ্ণ
0
31

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিসংখ্যান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন রাসেলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদেরকে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া কোন শিক্ষার্থী ইসলামিক কোন কথা বললে তাকে শিবির আখ্যা দিয়ে ব্লক করে দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

জানা যায়, সম্প্রতি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী শাহিনুর ইসলাম ফিরোজ ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী চিত্রা ঘোষ পরমার এক বক্তব্যের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেন। 

ওই পোস্টে তিনি লিখেন, ‘যিনি কিনা বাঙালি সংস্কৃতিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে একটি মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে পশ্চিমা, ল্যাংটো, সংস্কৃতি চালু করার প্রয়াস দেখিয়েছেন যা আমাকে এবং আমার বাঙালি সংস্কৃতিকে ভীষণভাবে আঘাত করেছে তার দরুন আমি জানতে চেয়েছি যে এটা কি আদৌও ধর্ষণের বিচার চাওয়া নাকি আমার দেশকে একটি ন্যাংটো সমাজ ব্যবস্থার চালু করার দাবি?
এমন পোস্ট দেওয়ার কারণে সহকারী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন রাসেল ওই শিক্ষার্থীকে মেসেঞ্জারে কল দিয়ে শাসিয়েছেন। পরে ব্লক করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ দিয়েছে শাহিন।    

তিনি ওই শিক্ষার্থীকে বলেন, শাহিন তুই তো ছাত্রলীগ করিস তাই না? তোর যে সভাপতি ছিলো না শাহিন (ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহীন) সে এক বাটপাড় তুই এক বাটপাড়। এছাড়াও এমন কর্মকাণ্ড শিবিরের বলে আখ্যা দেন তিনি।
ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী শাহিনুর ইসলাম ফিরোজ বলেন, ধর্ষণের কঠোর বিচার চাই, কিন্তু ধর্ষণের বিচার চাওয়ার নামে, রাত তিনটা পর্যন্ত বাহিরে থাকবে, প্রকাশ্যে দিবালোকে বিড়ি খাইবে ছোট ছোট পোষাক পড়বে এগুলো তো আমাদের সংস্কৃতির সাথে যায় না। আমি ছাত্র ইউনিয়নের এক নেত্রী চিত্রা ঘোস পরমা যে অশ্লীল বক্তব্য দিয়েছে তার বিরুদ্ধে  কথা বলেছি। তাই ওনি আমাকে শিবির বানাতে চাচ্ছেন। ছাত্র ইউনিয়নের এই নেত্রীর বক্ত্যবোর বিরুদ্ধে কথা বললে আর ধর্ষণের বিচার চাইলেই কি শিবির হয়ে যাবো?

তিনি আরো বলেন, আমি এবং সাবেক সভাপতি শাহিন ভাই নাকি বাটপার। কেন আমাকে এবং শাহিন ভাই কে বাটপার বলা হলো এবং আমি নাকি শিবির এর মতো কথা বলি আমাকে কেন শিবির বলে আখ্যায়তি করা হলো তার জবাব চাই। আমি আমার ছাত্র জীবন নিয়ে আতঙ্কিত। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী শাহিনুর ইসলাম ফিরোজ এর সাথে এমন আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে ছাত্রলীগ কর্মী রিজওয়ান উল ইসলাম সহকারী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন রাসেল বরাবর খোলা চিঠি প্রেরণ করেন।

ছাত্রলীগকর্মী রিজওয়ান উল ইসলাম বলেন, তিনি ইসলাম মানবেন কি মানবেন না এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু যে মানে বা মানতে চায় তাকে হুমকি দেয়া বা হেনস্থা করা কি ক্রাইম নয়? তার কাছে অসাম্প্রদায়িকতার মানে হয়তো ধর্মহীনতা বা নাস্তিকতা বা ইসলাম বিদ্বেষ হতে পারে আমাদের কাছে নয়। তার এরকম ছাত্র হেনস্থার ব্যাপারে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

আলতাফ হোসেন রাসেল বলেন, যারা অভিযোগ করছে তাদের কাছে যদি প্রমাণ থাকে তবে দেখান। আমাকে শিক্ষকতার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, কে শিবির করলো বা ছাত্রলীগ করলো এটা আমার দেখার দায়িত্ব না। ক্লাসের বাহিরে যদি কেউ ব্যক্তিগতভাবে সম্পর্ক রাখতে চায় তার সাথে আমি সম্পর্ক রাখবো কি না, মতের, পথের মিল পরে কি না সেটা আমার ইচ্ছার ব্যাপার। কারো সাথে সম্পর্ক না রাখলে কেউ যদি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে লেখে এতে তো আমার কিছু করার নাই। ক্লাসের বাহিরে আমার সাথে সামাজিক কাজে যারা থাকতে চায় তাদের সাথে আমার আইডলজির মিল পরে কিনা আমি চেক দেই। চেক দিয়ে রাখি। আর না হলে বাদ দিয়ে দেই। 

প্রক্টর অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন বলেন, ফেসবুকে এই পোস্টটা আমার নজরে এসেছে। আমি প্রো-ভিসি স্যারকে জানিয়েছি। ভিসি স্যারকে জানানোর জন্য ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে