[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]
ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘আবুল মনসুর আহমদের সাহিত্য সমাজের ধর্মান্ধতা ও শ্রেণিচরিত্র’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২ টায় বাংলা বিভাগের আয়োজনে রবীন্দ্র নজরুল কলা ভবনের গ্যালারি কক্ষে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক জনাব মাহফুজ আনাম। প্রধান আলোচক হিসেবে লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, বিশেষ আলোচক হিসেবে বাংলা বিভাগের প্রফেসর গাজী মো: মাহবুব মুর্শিদ, দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক জনাব ইমরান মাহফুজ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. তপন কুমার রায়।
সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সৈয়দ মাকসুদ আলম বলেন, ‘আবুল মনসুর আহমদ ছিলেন আধুনিক সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি একজন ক্লাসিক্যাল রাইটার ছিলেন। ক্লাসিক্যাল রাইটারদের মৃত্যু নেই। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। কুসংস্কারমুক্ততা, পূর্ববঙ্গত্ব, মুসলমানিত্ব ছিল তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তিনি ছিলেন সাম্প্রদায়িকতার উর্ধ্বে। আমাদের সকলের তার উপন্যাস পাঠ করা উচিৎ। কারণ আধুনিকতার সব উপাদান তার সাহিত্যে বিদ্যমান।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমার পিতা আবুল মনসুর আহমদ আজীবন তার আমিত্ববোধ ও আত্মসম্মান বোধ থেকে সমগ্র বিশ্বকে জানার চেষ্টা করেছেন। একই সাথে ধর্মীয়,সাংস্কৃতিক ও হাস্যরসাত্বক এক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। তিনি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন এবং মেহনতি মানুষের জন্যে কাজ করে গেছেন। একজন স্বামী হিসেবে তিনি স্ত্রীকে সম্মান করতেন। এসময় তিনি সমাজের শ্রেষ্ঠ লেখক, চিন্তশীল ও দার্শনিক ব্যক্তিদের সাহিত্য ও জীবনী পড়ে তা থেকে শিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের জীবনকে মুক্তচিন্তায় সুন্দর ও পরিস্ফুটিত করার আহ্বান জানান।’
উল্লেখ্য, আবুল মনসুর আহমেদ একজন বাংলাদেশী সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ এবং দেশবরেণ্য সাংবাদিক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্রুপাত্মক রচয়িতা। ১৯৪৬-এ অবিভক্ত বাংলার কলকাতা থেকে প্রকাশিত ইত্তেহাদ-এর সম্পাদক এবং তৎকালীন কৃষক ও নবযুগ পত্রিকায় ও কাজ করেন তিনি। আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯) তার বিখ্যাত আত্মজীবনীমূলক রচনা।


























