আরিচা-কাজিরহাট ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১,১২:২৩ অপরাহ্ণ
0
20

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

জনগণের দুর্ভোগলাঘবে আজ থেকে আরিচা-কাজিরহাট রুটে ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়েছে। আরিচা-কাজিরহাট  ফেরিরুটের দূরত্ব ১৪ কিলোমিটার। আরিচা থেকে কাজিরহাট যেতে সময় লাগবে একঘন্টা ৩০মিনিট; কাজিরহাট থেকে আরিচা আসতে  সময় লাগবে একঘন্টা ১০মিনিট। একটি রো-রো (বড়) ও দু’টি মিডিয়াম ফেরি দিয়ে এ সার্ভিস শুরু হয়েছে।  এ রুটে বড়বাসের ভাড়া ২ হাজার ৬০ টাকা, ট্রাকের ভাড়া ১ হাজার ৪০০, মাইক্রোবাসের ভাড়া ১ হাজার, কার  (ছোটগাড়ি) এর ভাড়া ৬শত ৮০, হোন্ডার ভাড়া ১শত এবং যাত্রীভাড়া ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহত্তর পাবনাসহ আশপাশের জেলার জনসাধারণের জন্য বঙ্গবন্ধু সেতু ব্যবহারের চেয়ে আরিচা-কাজিরহাট ফেরি-রুট ব্যবহার ও সময় উভয়ক্ষেত্রেই সাশ্রয়মূলক। গতবছর এ ঘাট ব্যবহার করে প্রায় ২৮ লাখ যাত্রী পারাপার হয়েছে।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী গতকাল মানিকগঞ্জের আরিচা প্রান্তে আরিচা-কাজিরহাট ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াতকারী জনসাধারণের জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশতবার্ষিকীতে উপহারস্বরূপ আরিচা-কাজিরহাট ফেরি-সার্ভিস এর উদ্বোধন করা হয়।

এ ফেরি সার্ভিসের ফলে আরিচা-কাজিরহাট নৌপথটি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগের একটি অন্যতম জনগুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে পরিগণিত হবে। পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালামালসহ বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর সাজোয়া যান, অন্যান্য ভারী যানবাহনসমূহ এ ঘাট দিয়ে পারাপার হতে পারবে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জনগুরুত্বপূর্ণ ঘাটসমূহ নির্মাণ, সংরক্ষণ, মেরামত এবং যাত্রীসুবিধাসহ সুষ্ঠুভাবে ঘাটপরিচালনার সেবাকাজও সম্পন্ন করেছে। দুইপাড়ে ফেরিঘাট নির্মাণসহ নৌপথের প্রয়োজনীয় ড্রেজিং এবং বয়াবাতি স্থাপন করা হয়েছে।

১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পূর্বে এ দেশ ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা এবং পদ্মানদী দ্বারা পূর্ব ও পশ্চিমে দুইভাগে বিভক্ত ছিল। সে সময় ঐতিহাসিকভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ দুটি ফেরিঘাট আরিচা-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-নগরবাড়ী যথাক্রমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহন পারাপারে আরিচা নদীবন্দরের আওতায় পরিচালিত হতো। ফেরিপারাপারের অন্যতম প্রধানঘাট হিসেবে তখন থেকেই নগরবাড়ী উত্তরাঞ্চলে পরিবহনসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। পরবর্তীতে নৌপথের দুরত্ব হ্রাসসহ উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিতকল্পে ২০০২ সালে ফেরিঘাট আরিচা হতে পাটুরিয়াতে স্থানান্তর করা হয়। বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ায় নগরবাড়ী রুটে ফেরিসার্ভিস বন্ধ হয়ে যায় এবং ফেরিঘাট ৮ কিলোমিটার ভাটিতে কাজিরহাটে স্থানান্তর করা হয়। তবে ঘাটস্থানান্তর হলেও ব্যবহারকারীদের কাছে এর গুরুত্ব কমে যায়নি। আরিচা হতে কাজিরহাটে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ফেরি উদ্বোধনের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এ এম নাঈমুর রহমান দুর্জয়, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক এবং বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে