আন্তর্জাতিক সিডও দিবস : অর্থনীতিতে নারী ও সিডও বাস্তবায়ন পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২১,১০:৫৯ অপরাহ্ণ
0
24

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

আন্তর্জাতিক সিডও দিবস উপলক্ষ্যে আজ ১৬ সেপ্টেম্বর  (বৃহস্পতিবার ) বেলা সাড়ে তিনটায়  বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের  ঢাকা মহানগর কমিটির আন্দোলন উপ পরিষদের উদ্যোগে “অর্থনীতিতে নারী ও সিডও বাস্তবায়ন পরিপ্রেক্ষিত  জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা” বিষয়ক অনলাইন আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মাহাতাবুন নেসার সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা মহানগর কমিটির সংগঠক, পাড়া শাখার  সদস্য ও তরুণ প্রজন্মের সদস্যবৃন্দ।

স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের ঢাকা মহানগর কমিটি  সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনুস বলেন, সিডও জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত ও ঘোষিত একটি সনদ। এর মূল বিষয় হচ্ছে, নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ বা দূরীকরণ। যেখানে রাজনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক সব ক্ষেত্রে নারীর মানবাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি স্পষ্ট করে বলা হয়েছে।
সিডও একমাত্র আন্তর্জাতিক সনদ যাতে নারীর  মানবাধিকারের কথা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। অর্থনীতিতে নারীর উন্নয়ন নিশ্চিতকরণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় জোর দিতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন ও সমতা জন্য আমরা সমাজে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে মাধ্যমে এগিয়ে আসা উচিত। সমাজের সকল স্তরে নারীর অবস্থান উন্নয়নের শিক্ষা ও নারীর সৃজনশীল কাজের মূল্যায়ন করতে হবে। গত দেড় বছরে কোভিড পরিস্থিতি  নারী পুরষের বৈষম্যকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রকৃত রাজনৈতিক উন্নয়ন করতে হলে স্থায়ী উন্নয়ন লক্ষমাত্রার সাথে সিডও, জাতীয় উন্নয়ন নীতির বাস্তবায়নের প্রতিফলন জেন্ডার বাজেটে থাকতে হবে। নারী মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার  অর্থনীতিতে, রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নারীকে মূলধারায় নিয়ে আসার জায়গায় জোর দিতে হবে। 

সভায় বক্তারা বলেন , আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন তৈরির সময় সরকার সিডও সনদ ও নারী নীতি বাস্তবায়নে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের কথা বললেও বাস্তবায়নে তেমন অগ্রগতি দেখা যায় না। সিডও সনদের ২ নং ধারাকে বলা হয় বা সনদের প্রাণ। যে ধারায় নারী প্রতি বৈষম্যমূলক রীতিনীতি, প্রথা, আচার-ব্যবহার, নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বৈষম্য বিলোপ করে নারী-পুরুষের মধ্যে সমতার নীতিমালা গ্রহণের উপর জোর দেয় হয়েছে এবং ধারা ১৬-১(গ) তে বৈবাহিক সর্ম্পক বিদ্যমান অবস্থা ও বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে নারী-পুরষের একই অধিকার থাকবে। সিডও বাস্তবায়ন করতে নীতিমালাগুলো জবাবদিহিতামূলক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসলে কার্যকর ও
সার্থক হবে।  

বক্তারা আরও বলেন,সমাজের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা করা এবং নারীর বিকাশের জন্য সাবলীল পরিবেশ তৈরি করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এ জন্য আইন প্রণয়ন, আইনের সংস্কার ও প্রয়োগ নিশ্চিত করে, নারীর অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ (সিডও) দুটি ধারা থেকে আপত্তি তুলে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানোই হবে দিবসের আনুষ্ঠানিকতার মূল বিষয়।
এছাড়াও সিডও সনদে যে অধিকাংশ ধারা সরকার অনুমোদন করেছে সেগুলোর বাস্তবায়নও খুবই দুর্বল। সরকারকে এখন সিডওর দুটি ধারার ওপর সংরক্ষণ প্রত্যাহারে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি উন্নয়নে নারী উন্নয়ন তাই জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত।

নারীর সমসুযোগ ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একান্ত অপরিহার্য। দেশে টেকসই এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে নারী উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে কোভিডে ক্ষতিগ্রস্ত নারী  উদ্যোক্তাদের সহজ ঋণ কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে। অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সিদ্ধান্তগ্রহণের নারীকে সুযোগ দিতে হবে। কোভিডে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে নারীর কর্মসংস্থান ও  নারী উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা,ঋণ সহায়তা প্রদানে এগিয়ে আসতে হবে। করোনা সংক্রমণ একই সঙ্গে মানবজীবন ও অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীরা করোনার কারণে অর্থনৈতিকভাবে  তুলনামূলকভাবে বেশি  ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কোভিডের কারণে বাল্যবিয়ে বেড়েছে, এর ফলে শিক্ষায়, অর্থনীতিতে মেয়েরা পিছিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে দেশের  অর্থনীতিতে উন্নয়ন সার্বিকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।

অনলাইন আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের, ঢাকা মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনুস, সহ-সাধারণ সম্পাদক মঞ্জু ধর,খালেদা ইয়াসমিন কনা সদস্য ঢাকা মহানগর কমিটি, মাহফুজা জেসমিন-সাংবাদিক,
তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন  আবদুল্লাহ অনিক,সাজিয়া আরফিন মিথিন,নুসরাত এশা, ঢাকা মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি হোময়ারা খাতুন।

সভাপতির বক্তব্যে  সংগঠনের ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মাহাতাবুন নেসা  বলেন, আন্তর্জাতিক সিডও দিবস তাৎপর্য ও গুরুত্ব সমাজের সকল শ্রেণী পেশার নারীদের কাছে বিষয়বস্তু সুস্পষ্ট ভাবে তুলে ধরা উচিত।
নারীর জীবনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক সমস্যা ও  বৈষম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনে
‘সিডও সনদে গুরুত্ব অপরিসীম।

অনলাইন আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম। ঢাকা মহানগর কমিটির নেতৃবৃন্দ, সংগঠক,পাড়া শাখার  সদস্যবৃন্দ, তরুণ প্রজন্মের সদস্যবৃন্দ,
প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং সংগঠনের  কর্মকর্তাসহ ৫০ জন উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের ঢাকা মহানগর কমিটির আন্দোলন উপপরিষদের সম্পাদক জুয়েলা জেবুননেসা খান ।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে