অবৈধ ই-কমার্স ব্যবসার নামে জামাত নেতার কোটি কোটি টাকা পাচার

মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০২১,২:১৪ অপরাহ্ণ
0
12

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম মহানগরীর সাবেক জামাত নেতা শাহাদাৎ হোসেন শাহীন এমএলএম ব্যবসার নামে কোটি কোটি টাকা পাচারের নেওয়া অভিযোগ ।
ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মকে অনেকেই প্রতারণার বড় হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণা করে গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কোটি কোটি টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জ, ইভ্যালির বিরুদ্ধে সম্প্রতি ধারাবাহিক অভিযানের একের পর এক কারাগারে রয়েছেন। গ্রেপ্তার এড়াতে অনেকেই গা-ঢাকা দিয়েছেন, কিন্তু প্রশাসন ও বাংলাদেশ ব্যংকের নজরদারির অভাবে অফারের ফাঁদ আর লোভে পড়ে লাখ লাখ মানুষ টাকা খুইয়ে নিস্ব: হচ্ছেন চট্টগ্রাম নগরীর গোলপাহাড় মোড়ে ইম্পালস সিটি সেন্টার এর ষষ্ঠ তলায় সেল্ফ এমপ্লয়মেন্টস টেকনোলজিস লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির নিকট।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগে ভিত্তিতে জানা যায় চট্টগ্রাম নগরীর সাবেক জামাত নেতা শাহাদাৎ হোসেন শাহীন ২০১৮ সালের ২০ মে জয়েন্ট-স্টক থেকে নিবন্ধন নিয়ে সেল্ফ এমপ্লয়মেন্টস টেকনোলজিস লিমিটেড এর নামে এম এল এম পদ্ধতিতে ই-কমার্স ব্যবসার শুরু করে প্রত্যেক গ্রাহককে নিকট থেকে এক হাজার পাঁচশত টাকার বিনিময়ে দৈনিক ৫০ টাকার গুগলের কাজ প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লক্ষাধিক গ্রাহকের নিকট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে  ওয়েবসাইট বন্ধ করে দিয়েছে, একাধিক একাউন্টের মধ্যে শুধুমাত্র “ডার্চ বাংলা ব্যাংক, কদমতলী শাখার সেল্ফ এমপ্লয়মেন্টস টেকনোলজিস লিমিটেড নামের ১৪৩১১০০০২২৫৩৬নং একাউন্টের” মাধ্যমে পাচার করেছেন ২০ কোটি টাকা।

বর্তমানে গাড়ি-বাড়ির স্বপ্ন দেখিয়ে সেল্ফ ডিজিটাল বিজনেস প্লাটফরম(self digital business platform) নামে মোবাইল অ্যাপসে প্রায় ২০টির অধিক প্রজেক্ট তৈরি করে এমএলএম সিস্টেমে ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করলেও উক্ত ব্যবসার কোন প্রকার বৈধ কাগজপত্র বা সরকারি অনুমোদন নেই।

বর্তমানে গাড়ি-বাড়ির স্বপ্ন দেখিয়ে ডেস্টিনি ও ইউনি পে টু ইউ এর আদলে এক ঝাঁক তুরুণ গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে সাধারণ গ্রাহদের নিকট লক্ষ লক্ষ টাকা ইনভেষ্ট করাচ্ছেন এম এল এম পদ্ধতিতে। 

সেল্ফ ডিজিটাল বিজনেস প্লাটফরম (self digital business platform) নামে অ্যাপসে একাধিক প্রজেক্ট তৈরি করে এমএলএম সিস্টেমে ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনা করলেও তাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো প্রকার অনুমোদন নেই।

ভূক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনি অগোচরে ডবলমুড়িং থানা সংলগ্ন হাজী শফিকুল ইসলামের “আল নাহার” ভবনের নিচ তলায় কোম্পানির চেয়ারম্যান এর বাসভবনে ভি, ও, আই, পি মেশিন বসিয়ে অবৈধ পন্থায় টাকা লেনদেনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।  

সম্প্রতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ৪ জুলাই, ২০২১  প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের “ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১”এর ৩.১.১০ অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ব্যাতিরেকে ডিজিটাল মাধ্যমে কোন ধরনের অর্থ ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না, ৩.১.৩ অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে ডিজিটাল কমার্স বা ই-কমার্সের মাধ্যমে মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) বা নেটওয়ার্ক ব্যবসায় পরিচালনা করা যাবে না,  ৩.১.৯ অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে সকল ধরনের ডিজিটাল ওয়ালেট, গিফ্ট কার্ড, ক্যাশ ভাউচার বা অন্য কোন মাধ্যম যা অর্থের বিকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হতে পারে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ব্যতিরেকে তৈরী (Issue), ব্যবহার বা ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্তৃক প্রণীত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ব্যতিত দাপটে এই ব্যবসায়ী সমগ্র বাংলাদেশ ব্যাপি নেটওয়ার্ক তৈরি করে ই-কমার্সের নামে এম এল এম ব্যবসা পরিচালনা করিয়া কোটি কোটি টাকা পাচার ও গ্রাহকদের নিকট থেকে ক্লাউড ফান্ডিং ও পাওয়ার কার্ড বিক্রয়ের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ই-কমার্স ব্যবসার নামে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণা সাথে যুক্ত বড় বড় রাঘব-বোয়ালরা গ্রেপ্তার হলেও সরকারি অনুমোদন বিহীন সেল্ফ ডিজিটাল বিজনেস প্লাটফরম(self digital business platform)মোবাইল অ্যাপস তৈরি করে প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে ই-কমার্স এর আড়ালে এম এল এম ও মোবাইল রিচার্জ ব্যবসা পরিচালনাকারী সেল্ফ এমপ্লয়মেন্টস টেকনোলজিস লিমিটেড এর চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন শাহীন রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

ভুক্তভোগী আরো জানান শাহাদাত হোসেন শাহীন গ্রাহকদের আকৃষ্ট করার জন্য রানা বড়ুয়া, মো: স্বপ্ন নাঈম, মো মামুনকে নিয়োগ দিয়েছে। তাদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে গাড়ি বাড়ির স্বপ্ন দেখিয়ে মোটিভেট করে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করিয়ে উত্ত টাকা আত্মসাৎ কড়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য।

প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব, ইন্সপেক্টর জেনারেল, রেপিড একশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও পরিচালক চট্টগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবর ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায় সেল্ফ ডিজিটাল বিজনেস প্লাটফরম (self digital business platform) ব্যবসায় সহজ সরল গ্রাহকরা লোভে পড়ে লাখ লাখ টাকা ইনভেস্ট করে বিপাকে পড়েছেন, ইতি মধ্যে এক ভুক্তভোগী টাকা ফেরত চাওয়ায় তাকে মিথ্যা মামলায় জেল খাটানোর ভয় দেখানোর অভিযোগের কপি প্রতিবেদককের হাতে রয়েছে। প্রতিবেদককের হাতে আসা অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে শাহাদাৎ হোসেন শাহীন অফিসের কর্মরত প্রবাসী নাইম এর স্ত্রী এক সন্তানের জননী রুমি বেগমকে (ছদ্ম নাম) বিয়ে করে ভুক্তভোগীদের টাকা না দেওয়ার জন্য তাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, গ্রাহকরা টাকা ফেরত চাইলে রুমি বেগম ( ছদ্ম নাম) নারী নির্যাতন মামলার ভয় দেখায়। ভূক্তভোগীরা মিথ্যা মামলার ভয়ে মুখ খোলার সাহস পায়না। ইতিমধ্যে ভূক্তভোগী গ্রাহকরা ভবিষ্যৎ এ জীবনের নিরাপত্তা ও মিথ্যা মামলার হয়রানি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিশেষ ডায়েরী করলেও সেল্ফ এমপ্লয়মেন্টস টেকনোলজিস লিমিটেড এর চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন শাহীনের স্ত্রী রুমি বেগমের (ছদ্ম নাম) মিথ্যা মামলার ভয়ে আতংকিত।

অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য সেল্ফ এমপ্লয়মেন্টস টেকনোলজিস লিমিটেড এর চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন শাহীনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে জানান ট্রেড লাইসেন্স ও জয়েন্ট স্টক কোম্পানির অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করিতেছি, আমাদের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছি, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ব্যতিত এম এল এম সিষ্টেমে ই-কমার্স ব্যাবসা বৈধ কিনা জানতে চাইলে তিনি অবাঞ্চিত যুক্তি উপস্থাপন করে সেল্ফ ডিজিটাল বিজনেস প্লাটফরম (self digital business platform) এর বিরুদ্ধে কোনো সংবাদ প্রচার করলে প্রতিবেদকে মামলার হুমকি প্রদান করেন।

এই বিষয়ে র‌্যাব – ৭ এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল এম এ ইউসুফ, প্রতিবেদককে বলেন ইতি মধ্যে ঢাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রতারণার সাথে যুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে, চট্টগ্রামের গোয়েন্ধা নজরদারী অব্যহত রয়েছে শিঘ্র্রই অভিযান পরিচালনা করে প্রতারণার সাথে যুক্তদের আইনের আওতায় আনা হবে। 

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারশেন) মোঃ শামসুল আলম বলেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পেলেই অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হবে। 

এ বিষয়ে বিশেষায়িত গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা প্রতিবেদককে জানান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক “ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা ২০২১” এর বিধি বিধান অমান্য করে সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আদায় এমএলএম সিস্টেমে ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনাকারীরা গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে শীঘ্রই তাদের আইনের আওতায় আনার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে