[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]
সামাজিক দূরুত্ব মেনে অনুসন্ধিৎসু চক্র দেবিদ্বার শাখার উদ্যোগে ৬টি জোনে আলাদাভাবে আংশিক সূর্যগ্রহণ ও কর্কটক্রান্তি দিবস (বছরের দীর্ঘতম দিন) উদযাপণ হয়েছে।
আজ(রবিবার) মহাজাগতিক বিরল ঘটনা অর্থ্যাৎ আংশিক সূর্যগ্রহণ এবং একই সাথে বছরের দীর্ঘতম দিন উপভোগ করছে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশ থেকে আংশিক সূর্য গ্রহণ দেখা গেলেও উত্তর ভারত, পাকিস্তানের দক্ষিণ ভাগ, চীন, তাইওয়ান, মধ্য আফ্রিকা থেকে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। বাংলাদেশ থেকে পরবর্তী সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর।
সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের বিষয়ে অনুসন্ধিৎসু চক্র জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি মো. শাহজাহান মৃধা জানান, সূর্যগ্রহণ খালি চোখে দেখা অত্যন্ত ক্ষতিকর। এক্স-রে ফিল্ম, নেগেটিভ, ভিডিও-অডিও ক্যাসেটের ফিতা, সানগ্লাস, ঘোলা বা রঙিন কাচে এসব ক্ষতিকর অতিবেগুনি ও অবলোহিত রশ্মি আটকায় না। তাই কোনোক্রমেই এগুলো দিয়ে সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা যাবে না।
অনুসন্ধিৎসু চক্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম জানান, ১৩ ও ১৪ গ্রেডের ওয়েল্ডিং গ্লাস বা আর্ক গ্লাস দিয়ে নিরাপদে সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করা যায়। ১১ গ্রেডের ওয়েল্ডিং কাচ দিয়েও গ্রহণ দেখা যাবে। তবে সে ক্ষেত্রে দুটি কাচ একত্রে জোড়া দিয়ে ব্যবহার করতে হবে। তবে কোনো ফিল্টার দিয়েই একনাগাড়ে বেশিক্ষণ তাকানো যাবে না। সোলার ফিল্টার ছাড়াও পিনহোল ক্যামেরা দিয়ে কোনো কাগজ বা পর্দার ওপর সূর্যের প্রতিবিম্ব ফেলে গ্রহণ দেখা যেতে পারে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবী তার নিজ কক্ষপথে ঘুরছে। একই সঙ্গে চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে। সূর্য ও পৃথিবীকে নিয়ে একটি তল কল্পনা করলে চাঁদ সাধারণত সেই তলে থাকে না। কিন্তু কোনো কোনো অমাবস্যায় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চাঁদ সেই তলে একই সরলরেখায় চলে আসে। সূর্য চাঁদের আড়ালে চলে যায়। চাঁদের সংকীর্ণ ছায়া তখন পৃথিবীর বুকে ভ্রমণ করে। সেই ছায়া যেসব জায়গার ওপর দিয়ে যায় সেখান থেকে মনে হয় সূর্য ধীরে ধীরে ঢেকে যাচ্ছে। ছায়ার কেন্দ্রে যেসব অঞ্চল পড়বে সেখান থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। কেন্দ্রের বাইরে আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে। বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদ তুলনামূলকভাবে পৃথিবীর কাছে থাকায় চাঁদেও কৌণিক ব্যাস সূর্যের কৌণিক ব্যাস হতে কম থাকে। ফলে পূর্ণগ্রহণ হলেও চাঁদ সূর্যকে পুরো ঢাকতে পারে না। সূর্য বলয় আকারে চাঁদের ছায়ার চারদিকে দেখা দেয়।
অনুসন্ধিৎসু চক্র দেবিদ্বার শাখার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দেবিদ্বারের স্থানীয় সময় আনুমানিক দুপুর ১১টা ২০ মিনিটে সূর্যগ্রহণ শুরু হয়ে দুপুর ১টা ৯ মিনিটে সূর্যগ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছায় এবং দুপুর ২টা ৪৯ মিনিটে সূর্যগ্রহণ শেষ হয়।
অনুসন্ধিৎসু চক্র কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করোনা মহামারিতে ঝুঁকি এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেবিদ্বার থানার ৬টি জোনে আলাদাভাবে সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। জোনগুলোর দ্বায়িত্ব পালন করেন যথাক্রমে চক্রের দেবিদ্বার শাখার সভাপতি মু. কামরুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শিমুল, দফতর সম্পাদক সাইদুল ইসলাম মাহি, সদস্য মেহেদি হাসান, নাঈমুল ইসলাম, এলাহাবাদ জে. আলম ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ইবনে আবু সাঈদ জুয়েল এবং আমার পাঠশালার সহ প্রতিষ্ঠাতা মোঃ মেহেদি হাসান।


























