অনুমোদন পেল ‘জমি দলিল হওয়ার ৮ দিনের মধ্যেই নামজারি’র প্রস্তাব

মঙ্গলবার, নভেম্বর ১০, ২০২০,৫:০৮ অপরাহ্ণ
0
5

[ + ফন্ট সাইজ বড় করুন ] /[ - ফন্ট সাইজ ছোট করুন ]

জমি দলিল হওয়ার সর্বোচ্চ আট দিনের মধ্যে নামজারি করার মাধ্যমে জনগণের হয়রানি লাঘবে ‘জমি রেজিস্ট্রেশন ও নামজারি কার্যক্রম সমন্বয় সাধনের প্রস্তাব।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার সকালে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা বিভাগের সঙ্গে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত থেকে এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

পরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন,  এই অনুমোদনের ফলে নতুন জমির ক্রেতা সর্বোচ্চ ৮ দিনের মধ্যে মিউটেশন, পর্চা এবং নামজারি সম্পন্ন করতে পারবে। এর রেকর্ড কারেকশনের দায়িত্ব এসি ল্যান্ডের ওপর বর্তাবে। এ ব্যাপারে এসিল্যান্ড প্রতি মাসেই তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে রিপোর্ট পেশ করবে, কতগুলো মিউটেশন হলো এবং কতগুলো রেকর্ড কারেকশন হলো।

সচিব বলেন, আজকের বৈঠকে এ সম্পর্কে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তাকে একটি যুগান্তকারি সিদ্ধান্ত বলা যেতে পারে। এটা দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিনিয়োগকারী সবাইকে বড় রকমের একটা পরিত্রাণ দেবে। ফলে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হলো এবং এর ফলে মামলা মোকদ্দমাও অনেকাংশে কমে আসবে বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, মানুষের হয়রানি রোধকল্পে জমি রেজিস্ট্রেশন এবং মিউটেশনের বিষয়গুলোকে আরো স্বস্তিদায়ক করতে এবং জটিলতা নিরসন করে এ বিষয়ে সময় কমিয়ে আনতে অনেক দিন থেকেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রচেষ্টা চলছিল।

সচিব বলেন, বর্তমান নিয়মে ভূমি রেজিস্ট্রেশন হয় আইন মন্ত্রণালয়ের অধিনে থাকা সাব রেজিস্টার অফিস এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলা সার্কেল ভূমি অফিস থেকে। দুইটি ভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকায় এখানে সব সময় সমন্বয়সাধনটা কষ্টকর ছিল। এ কারণে একটি দীর্ঘসূত্রিতা থাকার পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশনেও একটা অস্পষ্টতা ছিল।

তিনি বলেন, নতুন নিয়মে সাব রেজিস্ট্রার অফিস এবং এসিল্যান্ড অফিসের মধ্যে একটি ইন্টারকানেকটেবল সফটওয়্যার থাকবে। এই যোগাযোগের ফলে একজন আরেকজনের ডাটাবেজে ঢুকতে পারবে। আর দলিল করার আগেই সফটওয়্যারের মাধ্যমে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি বা এসিল্যান্ড) কার্যালয় থেকে জমির তথ্য জেনে নেবেন সাবরেজিস্টার। একইভাবে দলিলের পর সেই তথ্য এসিল্যান্ডকে জানিয়ে দেবেন। তখন এসি ল্যান্ড নামজারি করবেন।

যিনি দলিল করতে যাবেন তাকে ৩টি দলিল করতে হবে, (আগে ছিল দুইটি) একটা সাব রেজিষ্টারের কাছে থাকবে, একটি আবেদনকারি পাবে অপরটি এসি ল্যান্ডের কাছে চলে যাবে। কজেই এসিল্যান্ড অটোমেটিকালি সফটওয়্যারের মাধ্যমে মিউটেশন সম্পন্ন করতে পারবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরো বলেন, এখন দেশের ১৭টি উপজেলায় এই কাজ চলছে। তারা আশা করছেন, পর্যায়ক্রমে এক বছরের মধ্যে সারা দেশেই এটি হয়ে যাবে। এর ফলে মামলা ও অনিয়ম কমার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি বণ্টন ও নামজারির কাজটিও দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে। তবে এই কাজ শুরু হতে আরো পাঁচ থেকে ছয় মাস লাগবে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উত্তরাধিকার সম্পত্তি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষও যেন ঠিক মতো পান, সেটি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ছাড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বৈঠকে আবারও মাস্ক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় বলে জানান মন্ত্রিপষিদ সচিব।

বিঃদ্রঃ মানব সংবাদ সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনা সাদরে গ্রহণ ও উৎসাহিত করে। অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পরিহার করুন। এটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে